Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হোল্ডিং নম্বর লাগানোর কথা বলে টাকা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীদের

হোল্ডিং নম্বর লাগানোর কথা বলে টাকা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীদের
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: বাড়িতে বাড়িতে টাকার বিনিময়ে হোল্ডিং নম্বর লাগানোর কথা বলে এলাকায় ঘুরছেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীরা। কোনও সরকারি নির্দেশিকা ছাড়াই ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীরা টাকা চাইছেন বলে অভিযোগ। পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতির স্বাক্ষর করা একটি কাগজ দেখিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতির জনপ্রতিনিধিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ। এদিকে বাড়ি বাড়ি হোল্ডিং নম্বর লাগানোর জন্য কাউকে বরাত দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা। 
Advertisement
গত কয়েকদিন ধরেই পুরুলিয়া জেলার গ্রামে গ্রামে ঘুরছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীরা। বাড়িতে বাড়িতে হোল্ডিং নম্বর লাগানো হবে বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। আরও জানা গিয়েছে, ওই সংস্থার কর্মীরা, পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সহ-সভাপতিকে করা একটি চিঠি সঙ্গে নিয়ে ঘুরছেন। ওই চিঠিতে সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা গ্রামে গ্রামে অর্থনৈতিক সমীক্ষার কাজ করছেন এবং প্রতিটি বাড়ির আইডেন্টিফিকেশন নম্বর দেওয়ার কাজ করবেন। ওই কাজের জন্য বাড়ি বিছু ৩০ টাকা করে নেওয়া হবে বলে চিঠিতেই জানানো হয়েছে। ওই টাকার বিনিময়ে বাড়িতে সরকারি লোগো সহ একটি টিনের নম্বর প্লেট লাগানো হবে বলে চিঠিতে জানিয়েছে। সেই সঙ্গেই চিঠিতে আবেদন করা হয়েছে যাতে পুরুলিয়ার সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে বলা হয়। ওই চিঠিতেই পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর রয়েছে। ওই স্বাক্ষরের উপরে লেখা রয়েছে ‘কপি টু অল সভাপতি টু টেক অ্যাপ্রোপিয়েট অ্যাকশন’। ঝালদা ১ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বলেন, ওই চিঠি দেখিয়ে সংস্থার কর্মীরা যোগাযোগ করেছিল। গ্রামে গ্রামে সমীক্ষা এবং নম্বর প্লেট লাগাতে তাঁদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সে বিষয়টি দেখার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীদের কথাবার্তায় সন্দেহ হয়। সেই সঙ্গে যে চিঠি নিয়ে তাঁরা ঘুরছেন, তা কোনও সরকারি নির্দেশিকার চিঠিও নয়। সংস্থার কর্মীদের বিডিওর সঙ্গে দেখা করতে বলেছিলাম। বিডিওর সঙ্গে দেখা করার হরি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলাম সংস্থার কর্মীদের। কিন্তু ওই সংস্থার কর্মীরা বিডিওর সঙ্গে দেখা করতে আসেননি। তাছাড়া খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, বাড়িতে বাড়িতে অর্থনৈতিক সমীক্ষা করা এবং হোল্ডিং নম্বর লাগানোর কোনও সরকারি নির্দেশিকা নেই। ওই সংস্থাকেও কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বলে খোঁজ পেয়েছি। এ বিষয়ে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, একটি সংস্থার পক্ষ থেকে অনেকদিন আগে কয়েকজন এসেছিলেন। বিভিন্ন কাগজপত্র দেখিয়ে বাড়িতে বাড়িতে হোল্ডিং নাম্বার লাগানোর বিষয়টি বলেছিল। কেউ চাইলে ওই হোল্ডিং নম্বার লাগাতে পারে বলেছিল সংস্থার কর্মীরা। সেই সঙ্গে জানিয়েছিল কাউকে জোর করার কোনও বিষয় নেই।  ওই চিঠিতে আমার স্বাক্ষর রয়েছে এ কথা ঠিক। তবে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদের এ বিষয়ে নিজে বিবেচনা করে যা ঠিক মনে হবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিলাম। পরে ওই চিঠিটি দেখে জানতে পারি তাতে জেলা পরিষদের মেমো নম্বর দিয়ে জালিয়াতি করা হয়েছে। ওরকম কোনও মেমো নম্বর দেওয়া হয়নি চিঠিতে। সংস্থার কর্মীদের ডেকে পাঠিয়ে এবিষয়ে জানতে চাওয়া হবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ