Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে বাম-কংগ্রেস ও তৃণমূল

হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে বাম-কংগ্রেস ও তৃণমূল
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: সাধারণ মানুষের রুজি-রুটি বাঁচাতে এক মঞ্চে যুযুধান চারটি রাজনৈতিক দল—তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেস ও এসইউসি। রেল স্টেশন থেকে হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রানাঘাট স্টেশনে এক সুরে গলা ফাটালেন চার দলই। বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজও উঠল সমস্বরে। তিন দলের নেতারাই সুর চড়িয়ে বলছেন, ‘রেল পরিষেবার উন্নতির পরিবর্তে হকার উচ্ছেদের নামে হাজার হাজার মানুষের রুজি-রুটি নিয়ে টানাটানি করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।’ যা দেখে স্থানীয়দের মন্তব্য—‘এটাই আসলে কেন্দ্র বিরোধী ইন্ডিয়া জোট।’
Advertisement
অমৃত ভারত স্টেশন নির্মাণে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে গোটা দেশেই। সেই তালিকায় অবশ্য নাম ওঠেনি রানাঘাট স্টেশনের। কয়েকশো কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে কল্যাণী থেকে তৃতীয় লাইন নির্মাণ প্রকল্পে। সেই সঙ্গে রানাঘাট স্টেশনে খোলনলচে বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। সেই কারণেই হকার উচ্ছেদ। সম্প্রতি, স্টেশন চত্বরের অস্থায়ী দোকানগুলিকে তুলতে নোটিস ধরিয়ে যায় রেল। ২৬ নভেম্বর জারি হওয়া সেই নোটিসে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, সাত দিনের মধ্যে খালি করতে হবে দখলীকৃত জায়গা। অন্যথায় ৩ ডিসেম্বর বল প্রয়োগ করে তুলে দেওয়া হবে দোকানপাট। তার পরই আন্দোলনে তিনটি রাজনৈতিক দল। 
প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষের রুটি-রুজি নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ছিনিমিনি খেলতে এই অভিযোগ তুলে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয় তিন দলের শ্রমিক এবং হকার সংগঠনগুলি। মঙ্গলবার, রানাঘাট স্টেশনে মঞ্চ বেঁধে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। পেটের টানে সেই প্রতিবাদ সভায়, রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ভেদাভেদ সরিয়ে এক ছাতার তলায় আসে তৃণমূলের আইএনটিটিইউসি, সিপিএমের সিটু, কংগ্রেসের আইএনটিইউসি এবং এসইউসিআইয়ের শ্রমিক সংগঠন। প্রতিবাদ সভা থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, পুনর্বাসন ছাড়া কোনও হকার এবং অস্থায়ী দোকানদার নিজেদের জায়গা ছাড়বে না। মানুষকে একদিকে রোজগার দিতে পারছে না কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। অথচ, হাজার হাজার মানুষের ন্যূনতম রোজকারের জায়গাটিও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। অতঃপর, বলপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা হলে পাল্টা প্রতিরোধ হবেই। 
অল বেঙ্গল তৃণমূল রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়নের দমদম ইউনিট ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট সুকুমার দাস বলেন, বিজেপি সরকার আগেই দেশ বিক্রি করেছে। রেলটাকেও সেই সঙ্গে বিক্রি করছে। এবার হকারদের পালা। তাঁদের তাড়াতে পারলেই বড় বড় বহুজাতিক সংস্থাকে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে স্টেশনের জায়গাগুলি বিক্রি করে রোজগার হবে। আমরা রেলের উন্নয়নের সঙ্গে রয়েছি। কিন্তু তাই বলে হকারদের তাড়িয়ে দিয়ে নয়। পুনর্বাসন দেওয়া হোক। আমরা আলোচনাতে রাজি। আজ সমস্ত রাজনৈতিক দল এক ছাতার তলায় এসেছে পেটের তাগিদে। এটা বিজেপি সরকার এবং রেলকে বুঝতে হবে। বিষয়টি নিয়ে পূর্ব রেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।
সম্পর্কিত সংবাদ