সংবাদদাতা, হবিবপুর: চাষের নামে দেশের বৃহত্তম হিজল বনে দখলদারি! ছোট ছোট হিজল গাছ কেটে বনদপ্তরের জায়গায় ধানের বীজ রোপন করছে কৃষকদের একাংশ। এমন অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হবিবপুর ব্লকের শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। স্থানীয়দের থেকে অভিযোগ পেয়ে সেখানে পৌঁছে যান বনকর্তারা। তারা হিজল বনে বীজ বপন করতে মানা করে দেন। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কাজ না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়। হিজল বনে এজন্য আরও নজরদারি বাড়িয়েছে বনদপ্তর। গাজোলের রেঞ্জার লতিফ শেখ বলেন, আগে কী হয়েছে আমাদের জানা নেই। আমরা হিজল বনে চাষ করব না। এরপর দেখলে প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেব। স্থানীয় সূত্রে খবর, ধানের বীজ রোপনের সময় প্রত্যেক বছরই কৃষকরা বনের ভিতরে কিছুটা অংশে মাটি খুঁড়ে বীজ বপন করে। সেই বীজ গাছে পরিণত হলে তা তুলে জমিতে লাগায়। এরফলে হিজল বনের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। মাটি আলগা হয়ে পড়ে। ছোট ছোট অনেক হিজল গাছ নষ্ট হয়ে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দার অভিযোগ, উত্তম হালদার নামে এক কৃষক বনের ভিতরে ঢুকে কিছুটা অংশের মাটি কেটে ধানের বীজ রোপন করছিল। বনের মাটি কেটে চাষ করার বিষয়টি মেনে নেন উত্তম। তিনি বলেন, অন্য কৃষক আমাকে বনে চাষ করতে বলেছিল। তাছাড়া অনেকেই বনদপ্তরের জায়গায় বীজ রোপণ করে। বনদপ্তর বাধা দেওয়ার পর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বনের জমিতে এই অবৈধ চাষ শুনে ইন্দ্র চৌধুরী নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, অনেকে বনদপ্তরের জায়গা দখল করে চাষ করছেন। অবিলম্বে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কারণ, বনই প্রকৃতির সম্পদ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে হবিবপুরের বিডিও মনোজ কাঞ্জিলাল জানান।



