Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

সন্ত্রাসের বদলায় পাকিস্তানে প্রত্যাঘাত, নিঃশর্ত সমর্থন রাশিয়ার

সন্ত্রাসের বদলায় পাকিস্তানে প্রত্যাঘাত, নিঃশর্ত সমর্থন রাশিয়ার
  • ৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রত্যাঘাতের মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত? যে কোনও সময় ভারত আঘাত হানতে চলেছে পাকিস্তানের উপর। সোমবার চীন এবং পাকিস্তানকে চরম ধাক্কা দিয়ে রাশিয়া সরাসরি জানিয়ে দিল, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের যে কোনও সিদ্ধান্তে মস্কো থাকবে দিল্লির পাশে। ঠিক যেমন অতীতেও থেকেছে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের প্রাক্কালে ঠিক এভাবেই মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে রাশিয়া ঘোষণা করেছিল, তারা ভারতের পাশে। আর এটা ক্রেমলিনের নিছক কূটনৈতিক বিবৃতি নয়। স্বয়ং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সোমবার ফোন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। পহেলগাঁও হামলার তীব্র নিন্দা করে পুতিন মোদিকে বলেন, ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে ভারতের। আর ভারত সেটা করবেই। সেই সিদ্ধান্তে রাশিয়া সম্পূর্ণরূপে ভারতের পাশে থাকবে। ভারতের যে কোনও সিদ্ধান্তের সমর্থন করবে।’ পাকিস্তানের কাছে এ যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত। কারণ রাশিয়ার নীরবতা থেকে পাকিস্তান আশা করেছিল, পুতিন কোনও পক্ষই নিচ্ছেন না। কিন্তু পাকিস্তান যখন দাবি করছে পহেলগাঁওয়ের তদন্তে রাশিয়াও অংশ নিক, ঠিক তখন পুতিন উল্টে জানিয়ে দিলেন, তিনি ভারতের পক্ষে। এই পদক্ষেপ চীনকেও হতচকিত করেছে। পুতিনকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মোদি। ক্রেমলিনও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তিনি ভারতে যাবেন। 

Advertisement

বিশ্বজগতের সমীকরণ যতই পাল্টে যাক, আজও দুই রাষ্ট্রশক্তির অবস্থান যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ঘটনায় প্রধানতম ফ্যাক্টর—রাশিয়া ও আমেরিকা। কে কোন দিকে? পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর থেকে আমেরিকা জানিয়েছিল, ভারত ও পাকিস্তান দু‌ই দেশই আমাদের বন্ধু। বড়সড় কোনও সংঘাতে না যাওয়াই ভালো। পুতিন সেই কূটনীতির ধারেকাছেই যাননি। তিনি সোমবার সোজা ফোন করে মোদিকে বলেছেন, ‘পাশে আছি। এই নৃশংস গণহত্যার সঙ্গে যারা যুক্ত এবং যারা চক্রান্তকারী, তাদের শাস্তি দিতেই হবে।’ বস্তুত স্বভাবসিদ্ধভাবেই পুতিন কোনও শান্তির বাণী শোনাননি। তিনি বলেছেন, ‘সমুচিত শিক্ষা দেওয়াই কাম্য।’ এখানেই শেষ নয়। জানা যাচ্ছে, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের যে একঝাঁক যুদ্ধজাহাজ চুক্তি হয়েছিল, সেই টামাল ফ্রিগেট রাশিয়া এই মাসেই ভারতে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এই ফ্রিগেট যে কোনও রকম অস্ত্র বহন ও নিক্ষেপে সক্ষম। 
পাকিস্তানকে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে— এই হুঁশিয়ারি ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর থেকে ক্রমাগত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিয়ে যাচ্ছেন। বিরোধীরা কিছুটা অসহিষ্ণু হয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেছে, ১৩ দিন হয়ে গেল পহেলগাঁও হামলার। আর কবে জবাব দেবে ভারত সরকার? রাজনাথ সিং আবার বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যখন বলেছেন, তখন কঠোরতম সাজা আমরা দেবই। অপেক্ষা করুন।’ 
সোমবার সকাল থেকেই সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে তুমুল তৎপরতা লক্ষ করা যায়। রাজ্যে রাজ্যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে প্রতিরক্ষা সচিব বৈঠক করেন। বিকেলে আসেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। সঙ্গে স্বরাষ্ট্র সচিব। তিন সামরিক প্রধানের সঙ্গে অজিত দোভালের বৈঠক হয়। সরকারি তৎপরতা থেকেই স্পষ্ট, এবার ভারতের সামরিক প্রস্তুতি শুধু অপেক্ষা করছে চূড়ান্ত সময় আসার! প্রশ্ন একটাই। ভারতের টার্গেট কী? পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ? নাকি সীমান্তে প্রিসিশন শর্ট ওয়ার? 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ