Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

কীভাবে এল আইসিইউ

আইসিইউ বা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এই আইসিইউ তৈরির নেপথ্যেই রয়েছেন স্যার ইয়েন ইবসেন। ১৯৫২ সালের কথা।

কীভাবে এল আইসিইউ
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান অসংখ্য অসাধারণ আবিষ্কারের ফসল। সেগুলি নিয়ে চলছে এই বিভাগ।

Advertisement

আইসিইউ বা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এই আইসিইউ তৈরির নেপথ্যেই রয়েছেন স্যার ইয়েন ইবসেন। ১৯৫২ সালের কথা। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে এল এক মহামারী। পোলিওর এক বিশেষ ধরন বালবার পোলিওতে আক্রান্ত হচ্ছিল শত শত মানুষ। মৃত্যুহার ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। সেই সময় কৃত্রিমভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস চালানোর জন্য আয়রন লাং নামের একটি যন্ত্র ব্যবহার হতো। এটি একধরনের নেগেটিভ প্রেশার ভেন্টিলেটর। রোগীর দেহ ঢুকিয়ে দেওয়া হতো এই যন্ত্রের মধ্যে। ভিতরে তৈরি হতো ঋণাত্মক চাপ। এর মাধ্যমে রোগীকে বাধ্য করা হতো শ্বাস প্রশ্বাস চালাতে। 
তখন সদ্য বস্টন থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করে ফিরেছেন স্যার ইয়েন ইবসেন। তিনি এক আইডিয়া দিলেন। ইবসেন জানালেন, ব্যাগিং নামক এক পদ্ধতির কথা। বস্টনের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে এই পদ্ধতি শিখেছিলেন তিনি। অ্যানেস্থেশিয়া যে রোগীদের উপর করা হতো, তাঁদের শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিকভাবে চালানোর জন্য রাবারের ব্যাগ ব্যবহার হতো। এই ব্যাগ হাতে চাপা হতো। শরীরের চারপাশে ঋণাত্মক চাপ তৈরি করে শ্বাস-প্রশ্বাস চালানোর বদলে, এক্ষেত্রে বাইরে থেকে সরাসরি শরীরে বাতাস দেওয়া হয়। ইবসেনের আইডিয়া নিয়ে বিস্তর তর্ক বিতর্ক হয়। অবশেষে আলেকজান্ডার ল্যাসেন রাজি হলেন পরীক্ষা করে দেখতে। পরের দিন হাসপাতালে ভর্তি হয় ভিভি এবার্ট। মাত্র ১২ বছর বয়স। তার উপরেই শুরু হল পরীক্ষা। ক্রমাগত ব্যাগে চাপ দিয়ে গেলেন ইবসেন। এবার্ট সুস্থ হল ধীরে ধীরে। এরপর ওই হাসপাতালের আরও অনেক রোগীর উপর এই প্রক্রিয়া প্রয়োগ হয়। আধুনিক ভেন্টিলেটর তৈরির প্রথম ধাপ ছিল এটিই। কিন্তু এতগুলি ব্যাগ একসঙ্গে চাপার জন্য প্রয়োজন পড়ল আরও বেশি কর্মীর। সেই সময় ১,৫০০ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থী এগিয়ে এলেন সাহায্যে। সমস্যা হল অন্যত্র। অন্য রোগীদের সঙ্গে পোলিও রোগীদের চিকিৎসা হবে কীভাবে? সেজন্য পোলিও রোগীদের জন্য একটি বিশেষ ঘর তৈরি হল। সেখানেই চিকিৎসা করা হতো পোলিও রোগীদের। সকলের অক্লান্ত পরিশ্রমে কমল মৃত্যুহার। এভাবেই আসে আইসিইউ-এর ধারণা। লিখেছেন শান্তনু দত্ত

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ