বিশেষ সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: ব্যাঙ্কের আর্থিক কেলেঙ্কারির নিয়ে প্রশ্নে অস্বস্তি? এর জেরে গুয়াহাটির দিলওয়ার হুসেন মজুমদার নামে এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করল অসম পুলিস। মঙ্গলবার বিকেলে অসম জাতীয় পরিষদের সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুব শক্তির এক বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছিল ব্যাঙ্কের সামনে। খবর সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন দিলওয়ার। প্রায় ২০.৩ কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ সম্পর্কে অসমের কো-অপারেটিভ এপেক্স ব্যাঙ্কের এমডি সম্বারু সইকিয়ার কাছে বিস্তারিত জানতে তাঁর অফিসে যান ওই সাংবাদিক। কিন্তু সইকিয়া বিষয়টি এড়িয়ে যেতে বলেন। তাঁর প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে দিওলওয়ার বেরিয়ে আসেন। এরপরই তাঁকে ফোন করে পানবাজার থানায় আসতে বলে পুলিস। সেখানে পৌঁছতেই ওই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রসঙ্গত, এই ব্যাঙ্কের ডিরেক্টর স্বয়ং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও চেয়ারম্যান শাসক দল বিজেপিরই বিধায়ক বিশ্বজিৎ ফুকন।
দিলওয়ার অসমের একটি ডিজিটাল নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক। তিনি গুয়াহাটি প্রেসক্লাবের সহকারী সাধারণ সম্পাদক। তাকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এর বিভিন্ন ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এধরনের পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন পোর্টালের সম্পাদক অরূপ কলিতা। তিনি বলেছেন, পুলিস ধৃত সাংবাদিকের সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছে না। কী কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার তাও জানানো হচ্ছে না। গোটা ঘটনায় সরব বিরোধীরা। অসম জাতীয় পরিষদের সভাপতি লুরিনজ্যোতি গগৈ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কর্তব্যরত সাংবাদিকের গ্রেপ্তারি গনতন্ত্রে কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়?’ কংগ্রেস এই ঘটনাকে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকের স্বাধীনতার উপর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছে। বুধবার বিভিন্ন মহল এই গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে সরব হয়। রাজ্যজুড়ে চলে বিক্ষোভ প্রদর্শন। প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ও অসম সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছে। এদিন দিলওয়ারকে আদালতে তোলা হলে তাঁর জামিন মঞ্জুর হয়। তবে,জামিনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে না পারায় বুধবারও তাকে হেফাজতেই কাটাতে হবে বলে খবর। দিলওয়ার হুসেন মজুমদার।