


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বৈশাখের তপ্ত দুপুরে প্রচার। স্টেজের উপরে কুলারের আরাম। কিন্তু, আম জনতার সেই সুবিধা নেই। এরাজ্যে বিজেপির প্রচারের জন্য স্টার ক্যাম্পেইনার নেই। তাই ‘ভাড়া’ করে আনতে হচ্ছে ভিনরাজ্য থেকে। তাঁদের সঙ্গে না আছে বাংলা সংস্কৃতির মিল, না আছে মানুষের আত্মিক টান। ফলস্বরূপ যা হওয়ার তাই হল। বিজেপির সমর্থনে উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, বনগাঁ উত্তর, চাকদহ, হরিণঘাটা, মধ্যমগ্রামে প্রচারের জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে। কিন্তু, নিরাশ হলেন তিনি। কারণ বিজেপির সভায় স্বতঃস্ফূর্ত জনসংযোগের অভাব স্পষ্ট করে দিয়েছে ফাঁকা চেয়ারের ছবি। কিছু মানুষ এলেও তাঁদের শুনতে হল মিথ্যা আশ্বাস। মিথ্যা তথ্যও দিলেন হিমন্ত। সবমিলিয়ে চূড়ান্ত ফ্লপ-শো। বলাগড়ে ছিলেন অমিত শাহ। সেখানে ছিল জুমলার ছড়াছড়ি।
বৃহস্পতিবার হিমন্তের পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে সভা ছিল। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থল দেখলেই প্রকট হয়ে যাচ্ছিল এরাজ্যে পদ্ম শিবিরের কঙ্কালসার চেহারা। এদিন তিনি উলুবেড়িয়া দক্ষিণ কেন্দ্রের বেলাড়ি এলাকায় প্রচারে এসেছিলেন বিজেপি প্রার্থী মঙ্গলানন্দ পুরী মহারাজের সমর্থনে। সেখানে সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে হাতিয়ার করলেন হিমন্ত। টেনে আনলেন বাংলাদেশি মুসলমান এবং ঘুসপেটিয়া প্রসঙ্গ। সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে হিমন্তের হুঁশিয়ারি, বিজেপি এলে বাংলাদেশের মুসলমানদের বের করে দেব।
দিল্লিতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নামে মহিলাদের টাকা দেওয়ার মিথ্যা আস্ফালন করেছিল বিজেপি। কিন্তু, বাংলায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রকল্প নিশানা করতে ছাড়লেন না অসমের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মা লক্ষ্মী এত কঞ্জুস নয়, কিন্তু দিদিমণি কঞ্জুস। তাই মাত্র দেড় হাজার টাকা দেয়।’ একইসঙ্গে, উলুবেড়িয়ার স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও মিথ্যা তথ্য দেন তিনি। হিমন্তের দাবি, ‘এখানে হাসপাতালে চিকিৎসক নেই। ইমার্জেন্সি পরিষেবা নেই।’ স্থানীয়রা বলছেন, ‘উনি বাইরে থেকে এসেছেন। এখানে কী আছে, কী নেই তা কীভাবে জানবেন? বিজেপি যা শিখিয়ে দিয়েছে। সেসব উগরে দিচ্ছেন।’
চাকদহের দরাপপুরে বিজেপির জনসভা থেকে মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন হিমন্ত। সভায় রাজনৈতিক উত্তাপ থাকলেও, জনসমাগম প্রত্যাশামতো হয়নি। সভায় ভিড় কম হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তীব্র গরম ও সংগঠনিক দুর্বলতার কারণে মাঠ পূর্ণ না হওয়ায় বিজেপির জনসংযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বনগাঁ উত্তর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়ার সমর্থনে বনগাঁয় রোড-শো করেছেন হিমন্ত। বনগাঁ ১ নম্বর রেলগেট থেকে এই র্যালি শুরু হয়। বাটার মোড় হয়ে বনগাঁ ত্রিকোণ পার্কে এসে শেষ হয়। এক্ষেত্রেও এলাকার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা নজরে আসেনি। বরং ভিনরাজ্যের বহু মানুষকে দেখা গিয়েছে র্যালিতে। আদ্যাপীঠ থেকে আড়িয়াদহ হয়ে রথতলা মোড় পর্যন্ত বিজেপি প্রার্থী অরূপ চৌধুরীর সমর্থনে রোড-শো করেন হিমন্ত।
এদিকে, হুগলির বলাগড়ের সভায় এসে গঙ্গাভাঙন নিয়ে মুখ খুললেন না বিজেপির অমিত শাহ। তাতে অনেকেই আশাহত। পাশাপাশি, অমিত শাহ’র সভার ভিড় নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। এদিন বলাগড়ের মাঠে আকারে অনেক ছোটো এলাকা নিয়ে সভা করা হয়েছে। সেখানেও তেমন ভিড় দেখা যায়নি। পাশাপাশি, সভার মাঝপথে কর্মী-সমর্থকদের একাংশ এলাকা ছাড়েন। হিঙ্গলগঞ্জেও ছিল একই ছবি।