নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বিধাননগর: প্রথমবার ওএমআর শিটে উচ্চ মাধ্যমিক। সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষা। তাই আশঙ্কা একটা ছিলই। তবে ছোটখাটো বাধা পেরিয়ে সোমবার প্রথম দিনের পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই মিটল। এদিন ছিল বাংলা সহ প্রথম ভাষাপত্রগুলির পরীক্ষা। প্রথম দিন ওএমআর শিট পূরণ করতে গিয়ে অল্পবিস্তর হোঁচট খেয়েছে পরীক্ষার্থীদের একাংশ। তবে বাড়তি ওএমআরের জোগান থাকায় বড় কোনও সমস্যা হয়নি। এদিন সল্টলেকের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনে যান উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য।
সংসদ জানিয়েছিল, এবার পরীক্ষা শেষের পরেই পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিটের কপি দেখানোর ব্যবস্থা হবে। পরীক্ষা শেষের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্কুলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে পিডিএফ। কিন্তু এদিন সভাপতি জানান, সেই ভাবনা থেকে সরে এসেছে সংসদ। ফলপ্রকাশের পরেই ছাত্রছাত্রীদের ওএমআর দেখানোর ব্যবস্থা হবে। নাহলে ওয়েবসাইট ক্র্যাশ করে যেতে পারে। যদিও ফলপ্রকাশের পর ওএমআর দেখার ব্যাপারে ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ যে কমে যাবে, বলাই বাহুল্য।
এদিন প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রেই ১০-১৫ শতাংশ ছাত্রছাত্রী ওএমআর পূরণ করতে গিয়ে ভুল করেছে। সংসদের সচিব প্রিয়দর্শিনী মল্লিক জানিয়েছেন, ১০০ পরীক্ষার্থী পিছু ১৩০টি ওএমআর পাঠানো হয়েছিল। তাই অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এদিন ভগবতীদেবী বালিকা বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে যান সংসদ সভাপতি। সেখানে তাঁকে কয়েকজন অভিভাবক রীতিমতো ঘিরে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, কেউ তিন মাস পরে বই পেয়েছেন। কেউ আবার একেবারেই পাননি। পিডিএফ দেখে পড়াশোনা করতে হয়েছে। সেই সঙ্গে পরীক্ষার জন্য বাড়তি সময় দেওয়ার আবেদনও করেন তাঁরা। খাতা দেখার সময় ‘একটু বিবেচনা’র আর্জিও অভিভাবকদের তরফে রাখা হয় সংসদ সভাপতির কাছে। বাড়তি সময় দেওয়ার বিষয়টি চিন্তাভাবনার আশ্বাস দেন সভাপতি। বই দেরিতে পৌঁছনোর বিষয়টি স্বীকার করেও তাঁর মতো করে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তবে এমসিকিউ পদ্ধতির পরীক্ষায় ‘বিবেচনা’র তেমন কোনও পরিসর নেই বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
পরে সাংবাদিক বৈঠকে সভাপতি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে কিছুটা দেরি হলেও বই সকলেই পেয়েছে। যারা পায়নি, তারা সংসদের বুক মার্ট থেকে বই নিয়ে গিয়েছে। সেই ব্যবস্থা প্রধান শিক্ষকদেরই করার কথা। তাছাড়া, বই বিতরণের দায়িত্বে সংসদ থাকে না।’ সময় বাড়ানোও যে এ বছর সম্ভব নয়, স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।