নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বান্ধবীকে গাড়িতে আটকে রেখে মারধর ও শ্লীলতাহানির পর ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে বেহালা চৌরাস্তার কাছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ অর্ণব সাউ নামে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে মারধর, ভয় দেখানো সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ধৃত যুবক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পুলিশ। ।
তদম্তকারীদের সূত্রে খবর, অভিযোগকারিণী তরুণী ও অভিযুক্ত যুবক পূর্বপরিচিত। দু’জনের মধ্যে ফোনে কথা হত মাঝেমধ্যে। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি করানোর জন্য অর্ণব অনেকদিন ধরে বিরক্ত করছিল তরুণীকে। সাড়া দেননি তরুণী। বিষয়টি বিভিন্নভাবে এড়িয়ে গিয়েছেন। তারপরও পিছু ছাড়ছিল না সে। তখন তরুণী সিদ্ধান্ত নেন, অর্ণবকে তিনি তাঁর সমস্যার কথাগুলি বুঝিয়ে বলবেন। তাই তাকে শনিবার সন্ধ্যায় আসতে বলেন বাগির খালের কাছে। সেই মতো অর্ণব একটি গাড়ি ভাড়া করে বাগির খাল এলাকায় আসে। সেখান থেকে সে বান্ধবীকে গাড়িতে তোলে। অভিযোগ, গাড়িতে ওঠার পর থেকেই অর্ণব তরুণীর কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছিল। অস্বস্তি বোধ করায় তিনি দূরে সরে যাচ্ছিলেন। এক সময় তরুণী অভিযুক্তকে জানান, এভাবে তাঁর পক্ষে প্রেমের সম্পর্কে আসা সম্ভব নয়। তাছাড়া অভিযুক্ত সবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। আগে নিজে প্রতিষ্ঠিত হোক। এসব কথা কানে তোলেনি ওই ছাত্র। মেয়েটিকে গাড়িতে জোর করে আটকে রেখে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ। বাধা দিতে গেলে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্ত। তরুণীর দাবি, মারধরের পর তাঁকে চলন্ত গাড়ি থেকে ঠেলে ফেলে দেয় অর্ণব। কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্টকে বিষয়টি জানালে গাড়িটি আটক করে পুলিশ। গাড়ি সহ অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে আসেন সার্জেন্ট। দায়িত্বে থাকা অফিসারকে গোটা ঘটনা জানান তিনি। ইতিমধ্যে ওই তরুণী বাবাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় হাজির হন। পুলিশের সামনে যাবতীয় ঘটনার আদ্যোপান্ত বর্ণনা দেন। তরুণীর বাবা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ মারধর, জোর করে আটকে রাখা সহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে ওই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে। ধৃত জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতেই সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। রবিবার অভিযুক্তকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। অভিযুক্তের আইনজীবী অক্ষয় ভট্টাচার্য আদালতে বলেন, ‘দু’জন পূর্বপরিচিত। তরুণী স্বেচ্ছায় গাড়িতে ওঠেন। জোর করে তোলা হয়নি। মারধর ও ভয় দেখানোর অভিযোগ ঠিক নয়।’
পালটা সরকারি আইনজীবী সৌরীণ ঘোষাল বলেন, ‘অভিযুক্ত যুবক তরুণীকে আটকে রেখে মারধর যে করেছে, তার প্রমাণ রয়েছে।’ উভয় পক্ষের সওয়াল শেষে ধৃতকে জামিন দেয় আদালত।