নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: মধ্যমিকে সফল লুপ্তপ্রায় জনজাতির বীরহোড় কন্যাদের সংবর্ধনা জানালেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) মহুয়া বসাক। সোমবার বাঘমুণ্ডির ভূপতিপল্লি গ্রামে যান জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাঘমুণ্ডির বিডিও আর্য তা, বাঘমুণ্ডি-১ চক্রের এসআই অভিষেক পাল প্রমুখ। তাঁরা মধ্যমিকে সফল দিবিয়া শিকারি, মালা শিকারি ও পদ্মাবতী শিকারিকে সংবর্ধনা জানান। উচ্চশিক্ষায় তাদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেই আশ্বাসও দেন। তবে, আরএক সফল শম্পা শিকারি পরীক্ষা দিয়েই ভিন রাজ্যে কাজে চলে গিয়েছে বলে খবর। এদিন সে না থাকায় তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন আধিকারিকরা।
প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সালের আগে পর্যন্ত বীরহোড় জানাজাতির মানুষজন জঙ্গলেই বাস করত। যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াত। পরবর্তীতে প্রশাসনই তাদের খুঁজে বের করে বাঘমুণ্ডির ভূপতিপল্লি এলাকায় থাকার বন্দোবস্ত করে দেয়। শিক্ষার আলো থেকে বহু দূরেই ছিল এই জনজাতি। তবে, বর্তমান রাজ্য সরকারের বদান্যতায় ক্রমশই শিক্ষার আলো জ্বলছে বীরহোড়দের মধ্যে। চলতি বছর দিবিয়া, শম্পা, মালা ও পদ্মাবতী মধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েছে। দিবিয়ার প্রাপ্ত নম্বর ২৬৫, মালার ১৯৩, পদ্মাবতী ও শম্পা পেয়েছে যথাক্রমে ১৮৭ ও ২২০। চারজনই ধসকার পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু আদর্শ আবাসিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়া ছিল।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক বলেন, লুপ্তপ্রায় বীরহোড় জানজাতির পড়ুয়ারা মাধ্যমিকের গণ্ডি টপকেছে, এটা গর্বের। ওরা যাতে হারিয়ে না যায়, পড়াশোনা ছেড়ে না দেয়, তার জন্য উত্সাহিত করতেই আমাদের আসা। এখানে এসে জানলাম ওরা ইলেভেনে ভর্তি হয়নি। ওদের ভর্তির সবরকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাঘমুণ্ডি গার্লস হাইস্কুলে ওদের ভর্তি করানো হবে। স্কুলের হস্টেলেই থাকা খাওয়ার বন্দোবস্ত করো হবে। শবর কন্যারাও বলে, প্রশাসন সাহায্য করলে আগামী দিনে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে তাদের কোনও সমস্যা নেই।