নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আউশগ্রামের দ্বারিয়াপুর গ্রামে ভরা ভাদ্রেই অষ্টমীর মেজাজ। ডোকরার মূর্তি তৈরিরঅর্ডার আসছে কলকাতা থেকে। কাঁসার আটফুটের সাবেকি দুর্গা প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী তৈরির কাজও চলছে জোর কদমে। অনেক দিন পর মুখে হাসি শিল্পীদের। বেশ কয়েক বছর ধরে ডোকরার দেব-দেবীর মূতির চাহিদা তেমন ছিল না। চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন শিল্পীরা। তার উপর কয়েক মাস ধরে মেলাও হয়নি। বাইরে নিয়ে গিয়ে নিজেদের শিল্পকলা বিক্রির সুযোগ ছিল না। এবার পুজোর ঢাকে কাঠি পড়তেই কলকাতা থেকে বরাত আসায় খুশি শিল্পীরা। তাঁরা বলছেন, কাচামালের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গিয়েছে। মাঝে বিক্রি কমে গিয়েছিল। পুজোর মরশুমে প্রতিমা তৈরির ডাক আসায় সুদিন ফিরবে। আশায় রয়েছেন শিল্পীরা।
ডোকরা শিল্পী শুভ কর্মকার বলেন, ‘দু’মাস আগে আট ফুটের দুর্গা প্রতিমা তৈরির অর্ডার এসেছিল। সেই মতো কাজ শুরু করি। দুর্গা, মহিষাসুর, লক্ষ্মী, গণেশ তৈরির কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। অল্প কিছু কাজ বাকি রয়েছে। পুজোর অনেক আগেই কলকাতায় প্রতিমা পাঠাতে পারব বলে আশা করছি। প্রতিমা তৈরি করতে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এভাবে অর্ডার আসতে থাকলে শিল্পীরা আবার নতুন করে আশার আলো দেখতে পাবেন।’ গুসকরা থেকে পুরানো কাঁসার সামগ্রী এনে তা গলিয়ে বিভিন্ন ধরণের সামগ্রী তৈরি হয়। ছোট আকৃতির দুর্গাপ্রতিমাও তৈরি হচ্ছে। তবে, সবটাই সাবেকি। ডোকরা দিয়ে সাধারণত থিমের প্রতিমা তৈরি করা হয় না। আর একশিল্পী বলেন, মূলত বনেদি পরিবারগুলি থেকেই প্রতিমা তৈরির অর্ডার আসছে। এধরনের কাজ করতে অনেক সময় লেগে যায়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই গ্রামের ডোকরার সামগ্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছে। রাষ্ট্রপতি পুরষ্কারও গ্রামের একাধিক শিল্পী পেয়েছেন। কিন্তু তারপরও এই গ্রামের শিল্পীদের সুদিন ফেরেনি। কারণ, ডোকরা সামগ্রী বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট বাজার নেই। পর্যটকরা গ্রামে ঘুরতে এসে অর্ডার দিয়ে যান। আগামী দিনে এই গ্রামের উন্নতির জন্য একাধিক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এক আধিকারিক বলেন, এখানকার শিল্পীদের কাজ চোখ ধাঁধানো। কোনো সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে শিল্পীদের সৃষ্টিকর্ম যাতে বিক্রি করা যায়, তা দেখা হবে। অনেকে এই গ্রাম সম্পর্কে জানতে পারেন না। জেলায় ঘুরতে এসে পর্যটকরা যাতে দ্বারিয়াপুর গ্রামে যান সেই বন্দোবস্ত করা হবে। তবে অনেক দিন পর গ্রামের শিল্পীদের কাছে প্রতিমা তৈরির অর্ডার আসায় তাঁরা সুদিনের অপেক্ষায় রয়েছে। শিল্পী শুভ কর্মকার বলেন, আশা করা যায় পুজোর মরশুমে আরও অর্ডার আসবে। যেমন চাইবেন তেমনই প্রতিমা তৈরি করে দেওয়া হবে। তবে বড় প্রতিমা তৈরি করতে সময় দরকার। -নিজস্ব চিত্র