নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের বিরোধী দলনেতার ‘অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ’ প্রত্যাহার করে নিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে চলা চারটি মামলায় রাজ্য সরকার এবং সিবিআইকে যৌথ ভাবে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর সিঙ্গল বেঞ্চ। ঘটনা হল, ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর বিরোধী দলনেতাকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা। সেই নির্দেশে উল্লেখ ছিল, হাইকোর্টের অনুমতি ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের বা কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। এই নির্দেশের পর রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছিল।
শুক্রবার বিচারপতি সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দীর্ঘ দিন ধরে চলতে পারে না। তাই এই রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া, তাঁর বিরুদ্ধে যে ১৫টি মামলা ছিল, তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি আরও জানিয়েছেন, এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে বিরোধী দলনেতা বা তাঁর আইনজীবীদের কিছু বক্তব্য থাকলে, তা আগামী সোমবারের মধ্যে লিখিত ভাবে জানাতে হবে।
এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘তিন-চার বছর ধরে যে বাধাটা ছিল, সেটা আর থাকছে না। এবার অভিযোগ থাকলে এফআইআর করা যাবে।’ বিরোধী দলনেতার অবশ্য অভিযোগ ছিল, তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে ২০২১ এবং ২০২২ সালে দু’বার হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। যার প্রেক্ষিতে তাঁকে ওই অন্তর্বতী রক্ষাকবচ দিয়েছিল হাইকোর্ট। বিরোধী দলনেতার আইনজীবী আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্যর বক্তব্য, অধিকাংশ এফআইআর বাতিল হয়ে গিয়েছে। চার-পাঁচটি এফআইআর বাতিল করা হয়নি। সিবিআই এবং রাজ্য পুলিশের আধিকারিকরা যৌথভাবে যার তদন্ত করবে। ফলে একে রক্ষাকবচ প্রত্যাহার বলা যায় না।