Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রঘুনাথপুরের পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়া নিয়ে আজ হাইকোর্টে মামলার শুনানি

রঘুনাথপুরের পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়া নিয়ে আজ হাইকোর্টে মামলার শুনানি
  • ২৮ মে, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া ও সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: আগামীকাল বুধবার রঘুনাথপুর পুরসভা সংক্রান্ত মামলার শুনানি হতে চলেছে কলকাতা হাইকোর্টে। বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলার শুনানি হওয়ার কথা। সেদিকে তাকিয়ে রঘুনাথপুর শহরবাসী। প্রশাসক সরিয়ে ভোটাভুটির মাধ্যমে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন, নাকি ‘অকাল’ পুর নির্বাচন হতে চলেছে রঘুনাথপুরে, তা নিয়ে কৌতূহল বাসিন্দাদের মনে। 

Advertisement

রঘুনাথপুর পুর বোর্ড ভেঙে দিয়ে যেদিন প্রশাসক নিয়োগ করা হয়, সেদিনই আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বিরোধীরা। গত ২২ মে আদালতে মামলা দায়ের করেন পুরসভার একমাত্র বিজেপি কাউন্সিলার দীনেশ শুক্লা। দীনেশের দাবি, যাঁদের দুর্নীতির কারণ দেখিয়ে পুরসভার নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দেওয়া হল, সেই সমস্ত কাউন্সিলারদের পাপের বোঝা আমরা ভোগ করব কেন? আমাকেও তো ওয়ার্ডের মানুষ নির্বাচিত করেছেন। পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়ার ফলে বাসিন্দাদের ভুগতে হচ্ছে। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েও মানুষকে পরিষেবা দিতে পারছি না। তাই মামলা করার সিদ্ধান্ত নিই।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ মে একটি নির্দেশিকা জারি করে রঘুনাথপুর পুর বোর্ড ভেঙে দেয় রাজ্য নগর ও পুর উন্নয়ন দপ্তর। পুরসভার চেয়ারম্যান তরণী বাউরিকে অপসারিত করে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয় মহকুমা শাসক বিবেক পঙ্কজকে। আগামী ছ’ মাসের মধ্যে ফের নির্বাচনের কথা বলা রয়েছে নির্দেশিকায়। প্রশাসন সূত্রের দাবি, পুরসভার লাগামছাড়া দুর্নীতির কারণেই বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতিকে হাতিয়ার করে গত ২৪ এপ্রিল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ঘোষণা করেন পুরসভার সাত কাউন্সিলার। পুরসভার ১৩ কাউন্সিলারের মধ্যে শাসক দলের ছ’জন এবং কংগ্ৰেসের একজন কাউন্সিলার এই অনাস্থা আনেন। তবে, চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান কেউই তলবি সভা ডাকেননি। দু’জনের কেউই সভা না ডাকায় নিয়ম অনুযায়ী অনাস্থা প্রস্তাবে সই করা তিনজন প্রতিনিধি তলবি সভা ডাকার সিদ্ধান্ত নেন। সেই তলবি সভা হওয়ার আগেই পুরসভার বোর্ড কেন ভেঙে দেওয়া হল, তা নিয়েই মামলা করেছেন বিজেপি কাউন্সিলার। কংগ্রেসের শহর সভাপতি তারকনাথ পরমানিক বলেন, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ তো দীর্ঘদিন ধরেই হচ্ছিল। তাহলে প্রশাসন এতদিন কেন ব্যবস্থা নিল না? হঠাৎ করে পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইন বিরুদ্ধ বলে মনে করি। যে সমস্ত কাউন্সিলাররা দুর্নীতিতে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। অনাস্থা নিয়ে আসা তৃণমূল কাউন্সিলারদের অন্যতম প্রণব দেওঘরিয়া বলেন, আমরা আপাতত পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। জেলা সভাপতি যেমন নির্দেশ দেবেন, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে। 
প্রসঙ্গত, এর আগে ঝালদা পুরসভা নিয়েও বহু টানাপড়েনের সাক্ষী থেকেছে রাজ্য। পুরসভার চেয়ারম্যান কে হবেন, সেই নিয়ে লড়াই শুরু হয় শাসক দলের মধ্যে। বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে রাজ্য। পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। যদিও সেই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা দায়ের হয়। বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দেয় আদালত। রঘুনাথপুর পুরসভার ক্ষেত্রেও কি তাই হবে? সেদিকেই তাকিয়ে সব মহল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ