নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: রাজ্যের বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এবার সেই মামলাতেই বড়সড় পদক্ষেপ নিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্যজুড়ে বায়ু দূষণ রুখতে পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে একটি ‘রোড ম্যাপ’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ। সেইসঙ্গে রাজ্যের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স কীভাবে আরো স্বচ্ছ করা যায়, সে জন্যও সঠিক পরিকল্পনা নির্ধারণ করতে হবে বলে জানিয়েছে বেঞ্চ। এছাড়াও উৎসবের দিনগুলিতে বাজির ধোঁয়ার কারণে যে দূষণ ছড়ায়, তা নিয়ন্ত্রণে এখন থেকেই পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ। ১৩ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি। ওই দিন যাবতীয় পরিকল্পনা রিপোর্ট আকারে জমা দিতে হবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে।
এর আগে দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে সুপ্রিম কোর্ট এবং মুম্বইয়ের দূষণে বম্বে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেছিল। কলকাতার দূষণ নিয়েও জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। এর আগে মামলার শুনানিতে মামলাকারী আইনজীবী আকাশ শর্মা নথি দিয়ে উল্লেখ করেন, গত ২ জানুয়ারি কলকাতার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী শহরের বাতাস ‘খুব খারাপ’ থেকে ‘বিপজ্জনক’ পর্যায়ে (প্রায় ৩৩০–৩৫০) ছিল। মামলাকারীর যুক্তি ছিল, ওই দিনে দেশের অন্য মহানগরের তুলনায় কলকাতার বাতাসের মান ছিল অত্যন্ত খারাপ।
মামলায় দাবি, গত বছর ১২ নভেম্বর রাজ্যের মুখ্যসচিব, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ দপ্তরের প্রধান সচিবের কাছে শহরের দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দৃষ্টি আকর্ষণ করে পদক্ষেপের আবেদন করা হয়েছিল। শীতকালে আগাম বায়ুদূষণের বিষয়ে সতর্ক করে একটি গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান তৈরিরও প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর জবাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ জানায়, তারা সফটওয়্যার-ভিত্তিক গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির জন্য গবেষণা ও প্রাথমিক পরীক্ষার কাজ চালাচ্ছে। যদিও সেই কাজ বাস্তবে কবে শেষ করে তা কার্যকর হবে, সেই ব্যাপারে কোনও আশ্বাস দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ দেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
মামলাকারীর আরও দাবি ছিল, কলকাতা–হাওড়া সহ আশপাশের বড় শহরগুলিতে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান কার্যকর করার নির্দেশ দিক হাইকোর্ট। বিশেষজ্ঞ এয়ারশেড টাস্ক ফোর্স গঠন, খোলা জায়গায় আবর্জনা পোড়ানোয় কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক। তারপরেই বিষয়টি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে হাইকোর্ট।