নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খেলার মাঠে বুক চিরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে এক অভিনব ডিজাইনের ক্লক টাওয়ার। গড়িয়ার মিতালি সঙ্ঘের মাঠে গড়ে ওঠা এই টাওয়ার নিয়ে চলছিল দীর্ঘদিনের বিতর্ক। সেই বিতর্কে গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। আদালতের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ, দুই মাসের মধ্যেই এই ক্লক টাওয়ার ভেঙে ফেলতে হবে কলকাতা পুরসভাকে। যা নিয়ে এবার ডিভিশন বেঞ্চে যাচ্ছে গড়িয়া কামডহরি, পূর্বপাড়ার বাসিন্দারা।
মিতালি সঙ্ঘ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, এই টাওয়ারটি বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। যা নিয়ে তাঁরা আদালতে মামলা করে। পরে আদালত কলকাতা পুরসভার বক্তব্য চাইলে, পুরসভার তরফে হলফনামা দিয়ে জানানো হয়, এই ক্লক টাওয়ার নির্মাণে কোনও অনুমোদন ছিল না। যার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি গৌরাঙ্গকান্ত নির্দেশ দেন, পুরসভা যেন এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং দু’মাসের মধ্যেই টাওয়ারটিকে ভেঙে ফেলা হয়।
আদালতে মামলাকারী মিতালি সঙ্ঘের অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট ও জয়েন্ট সেক্রেটারি। মিতালি সঙ্ঘের, এই মাঠটি তাদের। ক্লাবের নামেই যা পরিচিত। সম্প্রতি মাঠের একাংশ ঘিরে তৈরি হয় এই ক্লক টাওয়ার। যা মাঠ ব্যবহারে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এই পর্বে কলকাতা পুরসভা হাইকোর্টে জানায়, ৮৪ ডেসিমেল জায়গা জুড়ে এই টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। এবং নির্মাণে কোনও অনুমোদন ছিল না। পুরসভাকে না জানিয়ে বেআইনিভাবে এই টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। আর সেজন্যই হাইকোর্টের এই নির্দেশ।
যদিও, এই বিষয়ে কলকাতা পুরসভার ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সন্দীপ দাস বলেন, যে মাঠে এই ক্লক টাওয়ার বানানো হয়েছে, সেই মাঠ সোনারপুর-রাজপুর পুরসভার লাগোয়া হলেও, কলকাতা পুরসভা এলাকার অন্তর্গত। যার উপযুক্ত নথি রয়েছে। মিতালি সঙ্ঘের তরফে এই মামলাটা হাইকোর্টে করা হয়েছে। ওই মাঠ কার তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক। যদিও এই মাঠ কলকাতা পুরসভার সম্পত্তি নয়। এটি একটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সম্পত্তি। যা বহু দশক দাবিদারহীন হয়ে পড়ে রয়েছে। গত ৭১ বছর ধরে এখানে পঞ্চদূর্গার পুজো হয়ে আসছে। কামডহরি, পূর্বপাড়ার বাসিন্দাদের কাছে এই পুজো, এই মাঠ আবেগের। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগেই ওই ক্লক টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মিতালি সঙ্ঘ কোনও তথ্য না জেনেই কলকাতা পুরসভার বিরুদ্ধে মামলা করে বসেছে। হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছে। কিন্তু যেহেতু এই মাঠের সঙ্গে পুরসভার কোনও সম্পর্ক নেই, তাই এবার পাল্টা সমস্ত নথি সহযোগে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হবেন স্থানীয় বাসিন্দারাই। নিজস্ব চিত্র