নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, দিনহাটা: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর দেওয়ার নাম করে টাকা তোলা বেআইনি। এমনই মন্তব্য করে দিনহাটা পুরসভার বর্তমান ও প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে শো-কজ করল প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ। কেন পুরসভার বর্তমান ও প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বা বর্তমান চেয়ারম্যানকে কেন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে না, তার জবাব তলব করেছে ডিভিশন বেঞ্চ।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পে বাড়ির টাকা পাওয়া উপভোক্তাদের কাছ থেকে উন্নয়নমূলক কাজের নামে অতিরিক্ত টাকা তুলেছে কোচবিহারের দিনহাটা পুরসভা। এমনই অভিযোগে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় মামলাকারী আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, আবাস যোজনার টাকা যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁদের কাছ থেকে উন্নয়নের নামে ২০ হাজার টাকা করে নিচ্ছে পুরসভা। যাঁরা ওই টাকা দিচ্ছেন না, তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে টাকা দেওয়ার পরও প্রকল্পের সুবিধা মেলেনি। সেইসব ব্যক্তি টাকা ফেরত চাইলে তাও দেওয়া হয়নি বলে দাবি মামলাকারীর। টাকা না দিতে পারায় মোট ১৮৭ জন প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। একজন তফসিলি জাতিভুক্তও এই প্রকল্পের সুবিধা পাননি।
এদিন প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ওই প্রকল্পের সুবিধা যাঁরা পান, তাঁরা দরিদ্র। টাকা দিতে পারেননি বলে এভাবে তাঁদের নাম বাদ দিলে তার প্রভাব সরাসরি প্রকল্পের উপর পড়বে। ২০২২ সালে যে অডিট হয়, সেখানে অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল স্পষ্টভাবে বলেছেন, এভাবে টাকা সংগ্রহ করা বেআইনি। ওই খাতে মোট ৪৩৯.৪২ লাখ টাকা তুলেছে পুরসভা। এক্ষেত্রে পুরসভার যুক্তি, অধিকাংশ পুরসভার ফান্ড নেই। তাই পুর এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ওই টাকা নেওয়া হয়েছে। যদিও প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এভাবে টাকা তোলা বেআইনি। তারপরই প্রাক্তন ও বর্তমান চেয়ারম্যানকে শোকজের নির্দেশ দেয় ডিভিশন বেঞ্চ।
পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান উদয়ন গুহের নেতৃত্বে আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে তা পাশও হয়। এরপর ২০১৫-’১৬ আর্থিক বছর থেকে ২০১৯-’২০ আর্থিক বছর পর্যন্ত শহরে আবাস যোজনায় ঘর প্রাপকদের কাছ থেকে ১৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। উপভোক্তাদের টাকা প্রাপ্তির রশিদও দিয়েছিল পুরসভা। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা দিনহাটা পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ এদিন বলেন, হাইকোর্টের অর্ডার এখনও হাতে পাইনি। সেই নির্দেশ পেলে উত্তর দেওয়া হবে। বর্তমান চেয়ারপার্সন অপর্ণা দে নন্দী বলেন, গত ৭ জানুয়ারি পুরসভার দায়িত্ব গ্রহণ করি আমি। ওই ঘটনার সময় আমি কাউন্সিলারও ছিলাম না। হাইকোর্টের কোনও অফিসিয়াল নির্দেশ এখনও হাতে পাইনি। চিঠি পেলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।