নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কামারহাটির মাফিয়া জয়ন্ত সিংয়ের পেল্লাই বাড়ি ভাঙার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পুরসভার ভূমিকায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্ট। আইন মোতাবেক কাজ না করে বিষয়টিকে অযথা জটিল করে তুলছে পুরসভা। এমনটাই মনে করছেন বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত।
বুধবার জয়ন্তর চারতলা বাড়ি ভাঙা নিয়ে ২৯ মে পুরসভার নোটিস খারিজ করে নতুন নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি কান্ত। হাইকোর্টের নির্দেশ মতো ওই বাড়ি ভাঙতে পুরসভা নোটিস জারি করেছিল। কিন্তু তা আইন মোতাবেক হয়নি দাবি করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জয়ন্তর বাড়ির এক বাসিন্দা প্রকাশ সিং। তাঁর দাবি ছিল, বাড়ি ভাঙার আগে বাড়ির বাসিন্দাদের কথা শোনা জরুরি। কিন্তু তা না করেই পুরসভা নোটিস জারি করেছে। যার প্রেক্ষিতে এদিন বিচারপতি কান্ত কামারহাটি পুরসভার আইনজীবীকে বলেন, ‘নির্দেশে কী লেখা আছে? আপনাদের কমিশনার কী ইংরেজি বোঝেন? আপনি ওই অর্ডার পড়ে বলুন, কোনটা না বোঝার মতো লেখা আছে। আমি ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলাম। তারপরেও আইন মেনে বাড়ি ভাঙা হয়নি কেন?’
বিচারপতির আরও পর্যবেক্ষণ, বেআইনি বাড়ি ভাঙার আগে বাড়ির বাকি বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। কোনও কারণ ছাড়াই বিষয়টিকে জটিল করে তুলছে কামারহাটি পুরসভা। ক্ষুব্ধ বিচারপতির মন্তব্য, ‘নির্দেশ কার্যকর না করতে পারলে কমিশনারের ওই পদে থাকার কোনও অধিকার নেই। আদালত কোনও পরামর্শ দেওয়ার জায়গায় নেই। আমি নির্দেশ দিয়েছি, সেটা কার্যকর করতে হবে। না হলে কীভাবে পুরসভা চলবে, সেটা তারা ঠিক করুক।’
এরপর ছয় সপ্তাহের মধ্যে ওই বেআইনি নির্মাণ নিয়ে পদক্ষেপ করতে কামারহাটি পুরসভাকে নির্দেশ দেন বিচারপতি। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজ্যের পুর আইন ১৯৯৩-এর ২১৮ নম্বর ধারা মেনে পুরসভাকে পদক্ষেপ করতে হবে। হাইকোর্টের এদিনের নির্দেশের পর কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা বলেন, আদালতের নির্দেশ মেনেই বাড়ি ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। সমস্ত পদ্ধতি মানা হয়েছিল। নতুন করে আদালত কী নির্দেশ দিয়েছে, তার কপি এখনও আমরা হাতে পাইনি। আদালত যা বলবে, সেইমতো পদক্ষেপ করা হবে।