সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: দুর্গাপুর, বার্নপুর, জামশেদপুর, রাউরকেল্লায় একের পর এক স্টিল প্ল্যান্ট গড়ে ওঠার অন্যতম কারণ ছিল মাটির নীচে সঞ্চিত কয়লা। দশকের পর দশক ধরে সেই কয়লা জ্বালানি ব্যবহার করেই লৌহ আকরিক থেকে স্টিল তৈরি করেছে সরকারি সংস্থা সেইল থেকে বেসরকারি সংস্থা টাটা, জেএসডব্লু। দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নের ভিত্তি সেই স্টিল উৎপাদনই হয়ে উঠেছে দেশের কাছে উদ্বেগের। ব্লাস্ট ফার্নেসে কয়লার দহন থেকে উৎপাদিত কার্বন দূষণের মূল কারণ। ২০৭০সালের মধ্যে দেশ জিরো কার্বন নির্গমণ করবে বলে বিশ্বকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই অবস্থায় বিকল্প রাস্তা খুঁজছে কেন্দ্র। সেখানে দিশা দেখানোর বড় পদক্ষেপ দেখা গেল সেই বাংলা থেকেই। দেশের প্রথম গ্রিন স্টিল রিসার্চ সেন্টার গড়ে উঠছে দুর্গাপুর এনআইটিতে। এনআইটির ডিরেক্টর অরবিন্দ চৌরে তার ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেছেন। গবেষকদের মতে, হাইড্রোজেন, বায়োমাস এমনকী অ্যামোনিয়াকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেই স্টিল উৎপাদন সম্ভব। তারই চুলচেরা গবেষণা হবে এই রিসার্চ সেন্টারে।
Advertisement
শুধু গবেষণাই নয়, তার বাস্তব প্রয়োগের জন্য ইতিমধ্যেই গবেষণার কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ইস্কো, ডিএসপির মতো সংস্থাগুলি। ইস্কোয় গড়ে উঠছে দেশের অন্যতম আধুনিকতম স্টিল প্ল্যান্ট। সেখানে ব্লাস্ট ফার্নেস এমনভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে যাতে কয়লার পরিবর্তে হাইড্রোজেনও যেন ব্যবহার করা যায়। পুরো প্রক্রিয়া চাক্ষুষ করতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া যৌথ প্রতিনিধি দল কারখানা পরিদর্শনও করেছে। গ্রিন স্টিল উৎপাদন সফল করতে গাঁটছড়া বেঁধেছে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া সরকার। তাদের যৌথ কর্মসূচির নাম ভারত-অস্ট্রেলিয়া মিনারেল স্কলার নেটওয়ার্ক প্রোগ্রাম। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলতি মাসে শিল্পাঞ্চলে এসেছিলেন সুইনসবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা গবেষক জিওফ ব্রুকস, অস্ট্রেলিয়ার সিএসআইআরওর গ্রিন স্টিলের ডিরেক্টর কেইথ ভিনিং ও অস্ট্রেলিয়ার ডিরেক্টর অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স পার্থ সেন। তাঁরা ইস্কোর কারখানার স্লিটার প্ল্যান্ট, ব্লাস্ট ফার্নেস, এসএমএস বা স্টিল মেল্টিং শপ ঘুরে দেখেন।
কয়েকদিন আগে দুর্গাপুর এনআইটিতে একটি পাঁচদিনের বিশেষ কর্মসূচি আয়োজিত হয় গ্রিন স্টিলের উপর। সেখানে ৬০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল। হাজির হয়েছিলেন আইআইটি খড়্গপুর, আইআইটি বম্বে, আইআইটি হায়দরাবাদের নামী গবেষকরা। তাঁরাই বিভিন্ন প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে কীভাবে কয়লা ব্যবহার না করেও স্টিল উৎপাদন সম্ভব তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভারতের মতো দেশে গ্রিন স্টিল উৎপাদনের চ্যালেঞ্জগুলি নিয়েও আলোচনা হয়। আলোচনা চক্রের মুখ্য অতিথি ছিলেন দুর্গাপুরের সিএমইআরআইয়ের ডিরেক্টর নরেশচন্দ্র মুর্মু, বিশেষ অতিথি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার কনসাল জেনারেল হাগ বয়লেন।
এনআইটির গবেষক অরূপকুমার মণ্ডল বলেন, ভারত সরকারের নির্দেশ মতো কয়েক বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে গ্রিন স্টিল গিয়ে গবেষণা করছি। এবার দেশেই স্থায়ী গবেষণা কেন্দ্র গড়ে উঠছে। আমাদের দেশ গ্রিন স্টিল উৎপাদনে বিশ্বকে পথ দেখাতে পারে। আমাদের প্রচুর সম্পদ রয়েছে যা সহজেই এই কাজে ব্যবহার করতে পারব।
কয়েকদিন আগে দুর্গাপুর এনআইটিতে একটি পাঁচদিনের বিশেষ কর্মসূচি আয়োজিত হয় গ্রিন স্টিলের উপর। সেখানে ৬০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল। হাজির হয়েছিলেন আইআইটি খড়্গপুর, আইআইটি বম্বে, আইআইটি হায়দরাবাদের নামী গবেষকরা। তাঁরাই বিভিন্ন প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে কীভাবে কয়লা ব্যবহার না করেও স্টিল উৎপাদন সম্ভব তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভারতের মতো দেশে গ্রিন স্টিল উৎপাদনের চ্যালেঞ্জগুলি নিয়েও আলোচনা হয়। আলোচনা চক্রের মুখ্য অতিথি ছিলেন দুর্গাপুরের সিএমইআরআইয়ের ডিরেক্টর নরেশচন্দ্র মুর্মু, বিশেষ অতিথি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার কনসাল জেনারেল হাগ বয়লেন।
এনআইটির গবেষক অরূপকুমার মণ্ডল বলেন, ভারত সরকারের নির্দেশ মতো কয়েক বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে গ্রিন স্টিল গিয়ে গবেষণা করছি। এবার দেশেই স্থায়ী গবেষণা কেন্দ্র গড়ে উঠছে। আমাদের দেশ গ্রিন স্টিল উৎপাদনে বিশ্বকে পথ দেখাতে পারে। আমাদের প্রচুর সম্পদ রয়েছে যা সহজেই এই কাজে ব্যবহার করতে পারব।



