Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

বসছে লাইন্যাকসহ ‘রে’ দেওয়ার হাইটেক যন্ত্র, ১০০ কোটির পরিকাঠামো পিজি ক্যান্সার হাবে

বসছে লাইন্যাকসহ ‘রে’ দেওয়ার হাইটেক যন্ত্র, ১০০ কোটির পরিকাঠামো পিজি ক্যান্সার হাবে
  • ১২ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ২০১৮-১৯ সালেই এন আর এস, কলকাতা, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের কাছে ক্যান্সার চিকিৎসার আধুনিকতম যন্ত্রপাতি চলে এসেছিল। তখন  রাজ্যের এক নম্বর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল পিজি পড়ে ছিল মান্ধাতার আমলে। মানুষজন অবাক হতো। পিজি’র অন্য সব বিভাগে রোগ ও রক্ত পরীক্ষা, সার্জারির হাইটেক যন্ত্র এবং আধুনিক প্রযুক্তি চলে এসেছে। অন্যান্য রোগ চিকিৎসায় বহু রোগীর পছন্দের এক নম্বর জায়গা পিজি। দিনে গড়ে ৩০ হাজার রোগীর এই হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগ কেন পড়ে আছে প্রাগৈতিহাসিক যুগে! ক্যান্সার লড়াইয়ের অস্ত্র বলতে মান্ধাতার আমলের কোবাল্ট আর ব্র্যাকিথেরাপি মেশিন! তাই ক্যান্সারের চিকিৎসার কথা উঠলেই গরিব, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত রোগী ছুটতেন এন আর এস, মেডিক্যাল বা আর জি কর-এ। অবশেষে সেই ক্ষত, দুর্নাম ঘুচতে চলেছে পিজি’র। তাদের ক্যান্সার হাব অবশেষে পেতে চলেছে ‘রে’ দেওয়ার অত্যাধুনিক লিনিয়র অ্যাকসেলারেটর বা লাইন্যাক। এছাড়া ব্র্যাকিথেরাপি মেশিন এবং সিটি সিমুলেটেরর মতো হাইটেক যন্ত্রপাতিও। হাসপাতাল সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে। এখনকার এক পদস্থ কর্তা বলেন, বহুদিনের প্রত্যাশা। আশা করছি, এবছরের শেষদিকেই এখানকার ক্যান্সার হাবের রোগীদের একাংশের জন্য এসব খুলে দিতে পারব। 

Advertisement

পিজি সূত্রের খবর, এখানকার ইমার্জেন্সির ঠিক উলটো দিকেই ক্যান্সার হাব। রাজ্যজুড়ে এমন দুটি হাব হওয়ার কথা। একটি পিজিতে, অন্যটি উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে। আর চালু হওয়ার কথা তিনটি রিজিওনাল ক্যান্সার সেন্টারে—বর্ধমান, বহরমপুর এবং কামারহাটি সাগর দত্ত মেডিক্যালে। শেষোক্ত তিনটি ক্যান্সার সেন্টার পুরোদমে চালু করার জন্য স্বাস্থ্যসচিব ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছিলেন। প্রতিটির জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতিসমেত কেন্দ্রের বরাদ্দ ছিল ৫০ কোটি টাকা। কিন্তু বাড়ি তৈরি করতেই ৪০ কোটি টাকা খরচ হয়ে যাওয়ায় যন্ত্র কেনার উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়ে। এরপর আসরে নামে রাজ্য সরকার। নবান্নের আর্থিক সাহায্যে রে দেওয়ার পাঁচটি লাইন্যাক মেশিন ঢুকছে রাজ্যে। তিনটি উপর্যুক্ত তিন মেডিক্যাল কলেজে এবং দুটি পিজিতে। 
পিজি’র এক পদস্থ সূত্র জানিয়েছে, শুধু ক্যান্সারের আধুনিক যন্ত্রপাতি খাতেই এখানে রাজ্য বহন করছে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা (জিএসটি সহ)। এছাড়া বাড়ি নির্মাণের জন্য সিভিল ও ইলেকট্রিক্যালের কাজে এখনও পর্যন্ত আরও ১৮-২০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। অন্যান্য খাতে কমবেশি আরও ৫ কোটি ধরলে, মোট খরচ হবে প্রায় ১০০ কোটি টাকা! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ