Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হুগলির ৩০ হাজার উপভোক্তা পাচ্ছেন বাড়ি তৈরির টাকা, খুশি আরামবাগের বন্যাবিধ্বস্তরা

হুগলির ৩০ হাজার উপভোক্তা পাচ্ছেন বাড়ি তৈরির টাকা, খুশি আরামবাগের বন্যাবিধ্বস্তরা
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: হুগলির প্রায় ৩০ হাজার উপভোক্তা বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। পাকা বাড়ি তৈরির জন্য প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার করে টাকা পাবেন তাঁরা। চলতি সপ্তাহেই তাঁরা নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাবেন। আবাস প্রাপকের তালিকায় রয়েছেন আরামবাগ মহকুমার বন্যা বিপর্যস্ত একাধিক পরিবারও। দীর্ঘদিন পর আবাসের বরাদ্দ রাজ্য দেওয়ায় খুশি বাসিন্দারা। আশায় বুক বাঁধছেন অন্য দুঃস্থ বাসিন্দারাও। 
Advertisement
আবাসের দায়িত্বে থাকা হুগলি জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, জেলায় প্রায় ৫০হাজার উপভোক্তাকে বাংলার বাড়ির আর্থিক সুবিধা দেওয়ার টার্গেট রয়েছে। তারমধ্যে সমস্তকিছু খতিয়ে দেখে প্রায় ৩০ হাজার পরিবারকে আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এদিন সন্ধ্যা থেকেই উপভোক্তারা নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার নবান্ন থেকে প্রকল্পের সূচনা করেছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলিতে প্রায় এক লক্ষ ৬৪ হাজার পরিবারকে আবাসের সুবিধা দিতে সমীক্ষা চালানো হয়। তারমধ্যে আবাস প্লাসের তালিকায় থাকা যোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। বন্যায় বিপর্যস্ত পরিবারগুলিও বাড়ি তৈরির টাকা পাবেন। একইসঙ্গে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীতে যাঁরা ফোন করে অভিযোগ জানিয়েছিলেন এমন উপভোক্তারাও প্রথম কিস্তির টাকা পাবেন। খানাকুলের তালিত এলাকায় দ্বারকেশ্বরের বাঁধ ভেঙে ছ’টি পাকা বাড়ি ভেসে যায়। সেখানকার বাসিন্দা কাশীনাথ বাগ বলেন, প্রশাসন আমাদের আবাসের টাকা দেবে বলে সবকিছু নথি নিয়ে গিয়েছে। শুনছি এদিনই টাকা ঢুকবে। এই টাকা পেলে আমাদের অনেকটাই উপকার হবে। আমরা এখনও বাঁধে রয়েছি। বন্যায় ভিটেমাটি সবই চলে গিয়েছে। আবাসের জন্য টাকা পেলেও কোথায় তা বানাব তা নিয়েও চিন্তায় রয়েছি। 
ধান্যঘোরির বাসিন্দা সাহেব পোড়ের এবারের বন্যায় ঘর ভেঙে যায়। তাঁরা দীর্ঘদিন স্থানীয় স্কুলের ত্রাণশিবিরে ছিলেন। ঘূর্ণিঝড় ‘ডানার’ সময়ও তাঁদের স্কুলে আশ্রয় নিতে হয়। পরে একটি অস্থায়ী ঘর তৈরি করে তাঁরা রয়েছেন। সাহেববাবু বলেন, প্রশাসন বাড়ি দেবে বলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছে। সেইমতো পাব বলেই আমরা আশাবাদী। তাতে আমাদের কিছুটা স্বস্তিও ফিরছে। বিজেপি পরিচালিত ধান্যঘোরির পঞ্চায়েত প্রধান কার্তিক ঘোড়া বলেন, এবার বন্যায় ভেঙে যাওয়া ঘরবাড়ির সার্ভে করে পাঠানো হয়েছে। তিন দফায় প্রশাসনও সমীক্ষা চালিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা বারবার আমাদের বলেছেন আবাসের বিষয়ে। আবাসের বরাদ্দ মিললে অনেকটাই সুবিধা হবে। খানাকুল-২এর বিডিও মধুমিতা ঘোষ বলেন, আবাসের বরাদ্দ এদিন থেকেই ঢোকার কথা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা প্রথম কিস্তির টাকা পাবেন। 
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, চলতি সপ্তাহে প্রায় ৩০ হাজার উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হবে। তারপর বাকিরাও ধাপে ধাপে কিস্তির টাকা পাবেন।
সম্পর্কিত সংবাদ