সংবাদদাতা, করিমপুর:ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অন্যান্য জায়গার মতো হোগলবেড়িয়ার সীমান্তেও সাধারণ চাষিদের প্রতিনিয়ত জীবন যুদ্ধ করতে হয়। সীমান্ত এলাকার জমিতে চাষ করার বাংলাদেশিদের অত্যাচার বছরভর লেগে থাকে। বেশিরভাগ সময় এই সমস্যা সমাধানে সীমান্তেপ্রহরারত বিএসএফ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ছুটতে হয় চাষিদের। এবছরেওবেশ কিছুদিন থেকে নাসিরেরপাড়া সীমান্তে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের অত্যাচার শুরু হয়েছে।তা নিয়ে চিন্তিত সীমান্তের লোকজন। নাসিরেরপাড়ার চাষিদের অভিযোগ, এখানেকাঁটাতারের বেড়ার ওপারে বহু ভারতীয় জমিতে চাষ করা হয়। শুধুমাত্র সীমান্তের ১২৫নম্বর গেট পেরিয়ে এলাকার চাষিরা প্রায় তিন হাজার একর জমিতে চাষাবাদ করেন।এখন ওই জমিতে মূলত সরিষা, গম ও মসুর চাষ হচ্ছে। অথচ সেই জমির ফসল প্রতিদিনকেটে নিয়ে যায় বাংলাদেশিরা। এব্যাপারে বিএসএফকে জানানো হয়। তাদের বাড়তি নজরদারিতে কখনও ফসল কাটা কমলেও সুযোগ পেলেই রাতের অন্ধকারে জমির ফসল কাটে সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশি কিছু লোকজন।
Advertisement
স্থানীয় এক চাষি প্রশান্ত মণ্ডল বলেন, কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে হওয়ায়চাষিদের জমি চাষ করতে যেতে অনেক ঘোরাপথে যেতে হয়। গ্রাম থেকে একমাত্র গেটপেরিয়ে জমিতে যেতে অনেক সময় লাগে। কিন্তু ওই জমির পাশেই রয়েছে বাংলাদেশেজামালপুর গ্রাম। অন্য গেট দিনের নির্দিষ্ট সময়ে খোলা-বন্ধ করলেও চাষেরসুবিধার্থে এই গেট প্রতিদিন সকাল ছ’টা থেকে সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বাকিসময় সম্পূর্ণ বন্ধ রাখে বিএসএফ। সেই সুযোগে বাংলাদেশের দুষ্কৃতীরা চুরি করে ফসলকাটে। পরিশ্রমের ফসল ঠিক মতো ঘরে তুলতে পারেন না চাষিরা। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যবুদ্ধদেব মণ্ডল জানান, শুধু চাষের এবং চাষিদের জন্যই বিএসএফ উদয় ক্যাম্প তৈরিকরেছিল, যাতে এই বৃহৎ এলাকায় চাষিরা নির্বিঘ্নে চাষ করতে পারেন। এতদিন ওইক্যাম্পে অনেক বেশি সংখ্যক বিএসএফ জওয়ান থাকতেন। ফসল চুরির কথা তাঁদেরজানালে তাঁরা বাড়তি নজরদারি করতেন। কিন্তুএকটু সুযোগ পেলেই ফসলের জমিতে অত্যাচার করে। বিএসএফকে সমস্যার কথা জানালেও সবসময় সমস্যার সমাধান হয়না। বিএসএফের জওয়ান কম থাকায় তাঁদের পক্ষেবাড়তি পাহারা দেওয়া সম্ভব হয় না।
করিমপুর ১বিডিও দেবদত্ত চক্রবর্তী জানান, এব্যাপারে চাষিরা লিখিতভাবে তাঁদের সমস্যার কথা জানালেসেই মতো বিএসএফ আধিকারিক ও জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলা হবে।
করিমপুর ১বিডিও দেবদত্ত চক্রবর্তী জানান, এব্যাপারে চাষিরা লিখিতভাবে তাঁদের সমস্যার কথা জানালেসেই মতো বিএসএফ আধিকারিক ও জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলা হবে।



