Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডেলিভারি দিতে এসে ধরা পড়ল স্থানীয়দের হাতে, পুরিয়া ফেলে চম্পট হেরোইনের ফেরিওয়ালার

পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে হেরোইনের ফেরিওয়ালা। নেশাখোররা তাদের দেখলে ঠিক চিনে যায়। তারাও একনজরে চিনে ফেলে নেশাড়ু খদ্দেরদের।

ডেলিভারি দিতে এসে ধরা পড়ল স্থানীয়দের হাতে, পুরিয়া ফেলে চম্পট হেরোইনের ফেরিওয়ালার
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে হেরোইনের ফেরিওয়ালা। নেশাখোররা তাদের দেখলে ঠিক চিনে যায়। তারাও একনজরে চিনে ফেলে নেশাড়ু খদ্দেরদের। বনগাঁয় সকাল হোক বা সন্ধ্যা, হেরোইন ফেরিওয়ালাদের আনাগোনা লেগেই থাকে। দিনে দিনে বাড়ছে নেশাড়ুদের সংখ্যা। তিতিবিরক্ত বাসিন্দারা নিজেরাই এবার পাহারার ব্যবস্থা করেছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, বুধবার এক গৃহবধূ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এক ফেরিওয়ালাকে ধরে ফেলেন। তারপর লোকজন জড়ো হয়ে যাওয়ায় ফেরিওয়ালাটি এক বাক্স হেরোইনের পুরিয়া ফেলে পালায়। উদ্ধার হয় ৫.৯ গ্রাম হেরোইন। মানুষের বক্তব্য, কালোবাজারে কমকরে ৬০ হাজার টাকা দাম হবে।

Advertisement

সকালবেলা পাড়ার রাস্তায় যেমন মাছওয়ালা, সব্জিওয়ালাদের আসা যাওয়া দেখা যায়, বনগাঁয় তেমনই প্রকাশ্যে ঘোরে হেরোইনের ফেরিওয়ালা। তাদের এখন রমরমা ব্যবসা। বিশেষ হাঁকডাক করে না। গোপনে বিক্রি করে চলে যায়। বুধবার বিকেলে বনগাঁর সুভাষপল্লিতে এমনই কি ফেরিওয়ালা ধরা পড়েছে। ওই গৃহবধূ তাকে ধরে হাত থেকে ছিনিয়ে নেন প্লাস্টিকের কৌটো ভর্তি হেরোইনের পুরিয়া। ধরা পড়ে সে ফেরিওয়ালা যুবক কাকুতিমিনতি করে বলেছে, ‘আমাকে এগুলি দিয়ে দিন। আর আপনাদের এলাকায় আসব না।’ কিন্তু গৃহবধূ তাকে ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে বিষয়টি জানান। পুলিশ আসে। ততক্ষণে অবশ্য হেরোইন ফেরিওয়ালা যায় পালিয়ে। বাক্সটি উদ্ধার করে পুলিশ। তারপর স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে এলাকার একটি ফাঁকা জায়গায় বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়েছে। গোপনে নেশার দ্রব্য হাতবদল হচ্ছে। তারা নজর রাখছিলেন। বুধবার এক হেরোইন ফেরিওয়ালা প্লাস্টিকের কৌটো থেকে কিছু বের করতেই স্থানীয় ওই গৃহবধূ ছুটে আসেন। কৌটো ছিনিয়ে নেন। সেটি খুলে বেশ কিছু হেরোইনের পুরিয়া দেখতে পান। স্থানীয়দের ডাকতেই কৌটো ফেলে পালায় অভিযুক্ত।
অভিযোগ, বনগাঁ শহরজুড়ে রমরমিয়ে চলছে বেআইনি হেরোইনের ব্যবসা। কারবারিরা অর্ডার মত ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয় হেরোইন। এই কাজে যুক্ত কিছু পুরুষ ও মহিলা। তারা সাইকেল, স্কুটি কিংবা বাইক নিয়ে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেয় হেরোইন। স্কুটির সিটের নীচে মজুত থাকে হেরোইনের পুরিয়া। এক হাতে টাকা নিয়ে অন্য হাতে নেশাদ্রব্য ডেলিভারি করে পাচারকারিরা। এই কাজের জন্য এমন জায়গা এরা বেছে নেয় যা সাধারণের সন্দেহের 
বাইরে থাকে। বিশেষ করে পাড়ার রাস্তা ফাঁকা রাস্তা, কোনও 
অফিস-আদালতের সামনের রাস্তা এদের পছন্দের। শহরে কিংবা শহরের বাইরে গজিয়ে ওঠা একাধিক চায়ের ঠেকেও রমরমিয়ে চলে এই 
নিষিদ্ধ মাদকের হাতবদল। পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডে রেললাইনের পাশে একাধিক জায়গায় হয় হেরোইনের পুরিয়া তৈরি। অন্য কোথাও থেকে এনে এই জায়গায় মজুত রেখে অল্প অল্প করে বিক্রি করে ফেরিওয়ালারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ