নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পুরুলিয়া লগোয়া ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলমহল এলাকা দ্বিতীয় ‘লালগোলা’ হয়ে উঠেছে। একসময় মুর্শিদাবাদের লালগোলা ‘হেরোইন হাবে’ পরিণত হয়েছিল। ভাগীরথীর পাড়ে এই এলাকা থেকে হেরোইন, ব্রাউন সুগার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ত। গোয়েন্দাদের দাবি, এখন সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে ঝাড়খণ্ড লাগোয়া জঙ্গলমহল এলাকা। ওই এলাকার রুক্ষ্ম জমিতে পোস্ত চাষ হয়েছিল। আঠা থেকে হেরোইন তৈরির কাজ হচ্ছে। স্থানীয় কারিগররাই এই কাজ করছে। সেখান থেকে এরাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মাদক ছড়িয়ে যাচ্ছে বলে গোয়েন্দারা জানতে পারছেন।
সম্প্রতি পুরুলিয়া জেলাতেও পুলিস এবং আবগারি দপ্তর পোস্ত গাছ নষ্ট করেছে। বাঘমুণ্ডি, কোটশিলা, বলরামপুরের কয়েকটি এলাকায় পোস্ত চাষ হয়েছিল। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে, বাঘমুণ্ডি এলাকায় মাদক কারবারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। হেরোইন বা ব্রাউন সুগার তৈরির দক্ষ কারিগর তৈরি হয়। একসময় লালগোলা ছাড়া অন্য এলাকার কারিগররা এই কাজ করতে পারত না। এখন পুরুলিয়া লাগোয়া ঝাড়খণ্ডেও দক্ষ কারিগর তৈরি হয়েছে, যা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে পূর্ব বর্ধমান সহ বিভিন্ন জেলায়।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানেও মাদকের রমরমা বেড়েছে। মূলত ব্রাউন সুগার এনে তা পুরিয়া তৈরি করছে। তা ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক আধিকারিক বলেন, দু’বছর আগে বর্ধমান শহরেও হেরোইন তৈরির কারখানার হদিশ পাওয়া গিয়েছিল। সেখান থেকে কয়েক কেজি হেরোইন উদ্ধার হয়। এছাড়া দুই মাদক কারবারিকেও পুলিস গ্রেপ্তার করে। তবে বর্ধমানে একটি ঘরেই মাদক তৈরি হতো। কিন্তু পুরুলিয়ার ঝাড়খণ্ড লাগোয়া জঙ্গলে বেশকিছু বাড়িতে মাদক তৈরি করা হচ্ছে বলে পুলিস জানতে পেরেছে।
গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, দুর্গম এলাকায় এবছর পোস্ত চাষ হয়েছিল। বিষয়টি অনেক দেরিতে গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে। এখন অধিকাংশ জমির গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তার আগেই পোস্তর খোলা থেকে কারবারিরা আঠা সংগ্রহ করেছে। এই আঠাতে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক মিশিয়ে হেরোইন, ব্রাউন সুগার তৈরি করা হচ্ছে। সেখান থেকে মাদক ঝাড়খণ্ড, বিহারের মতো বিভিন্ন রাজ্যেও যাচ্ছে বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। ওই এলাকায় সম্পূর্ণ নতুন গ্যাং তৈরি হওয়ায় তাদের নাগাল পেতে আধিকারিকদের বেগ পেতে হচ্ছে। আর এক আধিকারিক বলেন, দাগী ক্যারিয়ারদের উপর নজরদারি চালানো সহজ। কিন্তু নতুন করে কেউ এই লাইনে নামলে তাদের চিহ্নিত করতে কিছুদিন সময় লাগে। ঝাড়খণ্ড থেকে মাদক আসা বন্ধ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি করিডরে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। তারপরও কিছু জায়গা দিয়ে মাদক ঢুকছে বলে তদন্তকারীদের কাছে ইনপুট রয়েছে। এই রুট বন্ধ করা গোয়েন্দাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।