সংবাদদাতা, তেহট্ট: পলাশীপাড়া থানা এলাকায় লাগাতার মাদক বিরোধী অভিযান করছে পুলিস। তবুও হেরোইনের কারবার পুরোপুরি বন্ধ করতে পারছে না পুলিস। আগে পরিবারের কোনও একজন এই মাদক কারবারে গ্রেপ্তার হলে মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেত সেই পরিবারের। কিন্তু বর্তমানে এই কারবারে এত টাকা আসছে যে, অর্থের লোভে পরিবারের কলেজ পড়ুয়া ছেলেমেয়ে থেকে অন্য সদস্যরা এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকী বাড়ির মহিলারাও এই ব্যবসা করতে শুরু করেছে। এলাকার অনেক পরিবারই মাদকের কারবার করে রাতারাতি ধনী হয়ে উঠেছে। এই মারণ ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, পলাশীপাড়া থানা এলাকার বাউর বড় নলদহ, কুলগাছি, বরেয়া সহ প্রায় প্রতি গ্রামে, এমনকী তেহট্ট থানা এলাকার বেশ কিছু গ্রামে ব্যাপক ভাবে হেরোইনের নেশা ছড়িয়ে পড়েছে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। এলাকার সব গ্রামই শিরোনামে এসেছে শুধু মাত্র হেরোইন কারবারের জন্য। গ্রেপ্তার হয়েছে শতাধিক। বাজেয়াপ্ত হয়েছে কোটি কোটি টাকার মাদক। তারপরেও এই কারবারে রাশ টানা যায়নি। বড় নলদহ, ছোট নলদহ এলাকায় এই কারবার বেশি হয়। এছাড়াও বাউর, কুলগাছি বারুইপাড়া, গোপীনাথপুর, পলশুন্ডা, সাটিখালি গ্রামেও এই ব্যবসা রমরমিয়ে চলছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দিকে হেরোইন বাইরে থেকে এনে বিক্রি করত কয়েকজন ব্যক্তি। তাদের অল্পদিনে টাকার পাহাড়ে বসতে দেখে অনেকেই এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। এখন কাঁচামাল বাইরে থেকে নিয়ে এসে বাড়িতেই তৈরি হচ্ছে হেরোইন। এর প্রধান উপকরণ পোস্তর আঠা আসছে অসম, ত্রিপুরা ও ঝাড়খণ্ড থেকে। বাড়ির মহিলারাও ব্যবসা সামলাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এই ব্যবসার বিভিন্ন ভাগ আছে। কেউ কেউ উপকরণ আনছে। কেউ কেউ দায়িত্ব নিয়েছে তৈরি করার। আবার কেউ বিক্রি করার দায়িত্বে আছে। বিভিন্ন এলাকায় ডিলার আছে। প্রত্যেকেই মোটা টাকা আয় করে এই ব্যবসা থেকে। তাঁরা আরও বলেন, যারা এই ব্যবসায় যুক্ত তারা খেটে খাওয়া মজদুর ছিল। এখনও তারা সেই পরিচয় দেয়। কিন্তু তাদের ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স আকাশছোঁয়া। কুঁড়েঘর থেকে হয়েছে অট্টালিকা। ছোট ছোট ছেলেদের ব্যবহার করতেও আপত্তি নেই তাদের। কবে প্রতিকার মিলবে সেই আশায় রয়েছে গ্রামবাসীরা।