নিউ ইয়র্ক: ঘাম আর চোখের জল মিশে একাকার। ভেজা জার্সিটা গায়ে সেটে। তার উপরেই জড়িয়ে নিলেন লাল-হলুদ পতাকা। মঞ্চ তৈরি ছিল মেসি ও ইয়ামালের জন্য। লা মাসিয়ার অগ্রজ ও অনুজের দ্বৈরথ ঘিরে চড়েছিল পারদ। তবে সেই মঞ্চ রাঙালেন ফেরান তোরেস। বিশ্বকাপ ফাইনালে জাল কাঁপিয়ে নায়ক এই তরুণ স্ট্রাইকার। ১৬ বছর আগে বিশ্বকাপ ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে একমাত্র গোলটি এসেছিল আন্দ্রে ইনিয়েস্তার পা থেকে। রবিবার নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে তারই পুনরাবৃত্তি ঘটালেন তোরেস। প্রাক্তন তারকা মিডিওর সঙ্গে নাম লেখালেন একই আসরে। স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের মঞ্চ রাঙিয়ে রাতারাতি গোটা দেশবাসীর কাছে বীরের মর্যাদা পেলেন ২৬ বছর বয়সি তোরেস।
সোনায় বাঁধানো মাঝমাঠ ভর করেই চলতি বিশ্বকাপে একের পর বাধা টপকেছিল স্পেন। ফাইনালেও আরও একবার মিডফিল্ড ব্যাটেলেই তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টেক্কা দিল লুই ডে লা ফুয়েন্তের ছেলেরা। আর রড্রি-ওলমোদের যাবতীয় লড়াইয়ের মর্যাদা দিলেন সুপার-সাব তোরেস। ম্যাচ শেষে মাঠেই অফিসিয়াল ব্রডকাস্টারের অড়ুভূতি প্রসঙ্গে সঞ্চালক প্রশ্ন করতেই তরুণ এই স্ট্রাইকারের জবাব, ‘২০১০ বিশ্বকাপ জয়কে সামনে রেখেই বড় হওয়া। স্বপ্ন দেখতাম, দেশের জার্সি গায়ে চাপানোর। তবে কখনও ভাবিনি, বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করতে পারব। আজ আমি সপ্তম স্বর্গে ভাসছি। তবে এই সাফল্য আমাদের গোটা দলের সংমিলিত প্রচেষ্টায় ফসল। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে বিশ্বকাপ জয় অবশ্যই স্পেশাল। কোচ বলেছিলেন, চাপ না নিয়ে নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবলটা মেলে ধরতে। বিপক্ষ দলে মেসির মতো ফুটবলারের উপস্থিতি অবশ্যই আমাদের সতর্ক থাকতে বাধ্য করেছে। তবে কখনও চাপ মাথায় পড়তে দিইনি।’ কথা বলার মধ্যেই সতীর্থ ইয়ামাল এসে জড়িয়ে ধরলেন। বললেন, ‘তুমিই নায়ক। তোমার জন্য গর্বিত।’