সংবাদদাতা, ঝালদা: ঝাড়খণ্ড থেকে পুরুলিয়ার লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে প্রায় ১৪-১৫টি হাতির একটি দল। রবিবার ঝালদা রেঞ্জের জারগো মৌজায় হাতির দলটি ঢুকে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের কালিমাটি এলাকা দিয়ে হাতির দলটি পুরুলিয়ায় ঢোকে। এরপর নওয়াগড় হয়ে জারগো এলাকায় চলে আসে। জারগো মৌজার বুড়িপাহাড় এলাকায় হাতির দলটির অবস্থান করছে বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, আগের দিন রাত থেকেই ওই এলাকায় হাতির গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়। প্রায় ১৪-১৫টি হাতি একসঙ্গে লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে হাতির হামলায় কোনো মানুষের প্রাণহানি বা জখম হওয়ার খবর নেই। বড় ধরনের সম্পত্তির ক্ষতির খবরও মেলেনি। তবে হাতির দলটি এলাকায় ঘোরাফেরা করলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে বনদপ্তর ও পুলিশ। হাতির দলটির গতিবিধির উপর নজর রাখতে বনদপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরা এলাকায় রয়েছেন। পাশাপাশি ঝালদা থানার পুলিশও এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। হাতি দেখতে স্থানীয় মানুষের ভিড় যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ রাখা হয়েছে। বনদপ্তরের পাঁচটি রেঞ্জের প্রায় ৭০ জন কর্মী-আধিকারিক ও অন্যান্যরা এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছেন। হাতির দলটির গতিবিধি নিয়ে ঝালদার এসডিপিও এবং আইসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় বিধায়ককেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। সাংসদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আবেদন জানানো হয়েছে।
এদিন পুরুলিয়া বন বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বলরামপুর রেঞ্জের ঘাটবেরা মৌজায় একটি, অযোধ্যা রেঞ্জের তেলিয়াবাসা মৌজায় একটি, ঝালদা রেঞ্জের জারগো মৌজায় ১৪-১৫টি এবং মাঠা রেঞ্জের টিকরটার মৌজায় একটি হাতি রয়েছে। অর্থাৎ পুরুলিয়া বন বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি ১৮টি হাতি রয়েছে।
বনদপ্তরের তরফে স্থানীয় বাসিন্দাদের জঙ্গলে না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। হাতির দলের কাছাকাছি ভিড় না করা, তাদের উত্ত্যক্ত না করা এবং দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাতির দলটি যাতে কোনোভাবে লোকালয়ে ঢুকে মানুষের ক্ষতি না করে, সেদিকে নজরদারি চালাচ্ছে বনদপ্তর। পাশাপাশি হাতিগুলিকে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলের দিকে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র