শ্রীঠাকুরের এইসব অলৌকিক কৃপার সঙ্গে জড়িয়ে থাকতো একাধিক ব্যাপার। স্নিগ্ধা মা’র ক্ষেত্রে সরাসরি এত রকম অলৌকিকত্বের প্রকাশ ঘটেছিল কেন তা স্নিগ্ধা মা নিজেই বিশ্লেষণ করেছেন আমাদের সামনে।
শ্রীঠাকুরের এইসব অলৌকিক কৃপার সঙ্গে জড়িয়ে থাকতো একাধিক ব্যাপার। স্নিগ্ধা মা’র ক্ষেত্রে সরাসরি এত রকম অলৌকিকত্বের প্রকাশ ঘটেছিল কেন তা স্নিগ্ধা মা নিজেই বিশ্লেষণ করেছেন আমাদের সামনে।
শ্রীযুক্ত হৃদিন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীমতী অমিয়া ঠাকুরের কন্যা স্নিগ্ধা মা। হৃদিন্দ্রনাথ ছিলেন হেমেন্দ্রনাথের পুত্র। হেমেন্দ্রনাথ ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের পুত্র। দেবেন্দ্রনাথ ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। একদিন সাত পুত্রকে একসঙ্গে ডেকে বললেন, প্রাচীন গৃহবিগ্রহ নারায়ণ-শিলা গঙ্গায় বিসর্জন দিয়ে আসতে। পৌত্তলিকতা চলবে না ঠাকুর পরিবারে। প্রথমে কেউ এগিয়ে গেলেন না। শেষে পিতৃভক্ত হেমেন্দ্রনাথ প্রস্তুত হলেন পিতার আদেশ পালনের জন্য। হেমেন্দ্রনাথ নারায়ণ-শিলা নিয়ে যাচ্ছেন, তখন এক ভাই গুণেন্দ্রনাথ এগিয়ে এসে সেই শিলা চেয়ে নিলেন। তাঁর পরিবারের সকলে বললেন, বাইরের দিকে যে বাড়ীটি রয়েছে, সেখানে তাঁরা ঐ নারায়ণ-শিলা স্থাপন করবেন, গঙ্গায় বিসর্জন দেবেন না। শেষে তাই হ’ল। ঐ বাড়ীটি মেরামত রং ইত্যাদি করে ওখানেই বিগ্রহ বসানো হ’ল।
স্নিগ্ধা মা’র মনে ব্রাহ্মভাব বিশেষ দানা বাঁধতে পারেনি। যদিও তিনি ছোটবেলা থেকে ব্রাহ্ম শিক্ষাদীক্ষা আচার আচরণ মেনেই মানুষ হয়েছেন, তবু কোথায় যেন একটা অভাব বোধ থেকেই গিয়েছিল। হিন্দুয়ানি কোনও মতেই পরিত্যাগ করতে পারেননি নিজস্ব সংস্কার বশতঃ। ব্রাহ্মদের প্রার্থনা, সঙ্গীত, পাঠ, আলোচনা সব কেমন যেন নীরস ঠেকতো তাঁর কাছে, কোনও প্রাণ পেতেন না ওসবের মধ্যে। অথচ নিজেকে নিজের মত করে ফুটিয়ে তোলার কোনও অবলম্বন বা উপায়ও ছিল না তাঁর কাছে। এই দোটানার মধ্যে অন্তর্জগতে জেগেছিল গোপন প্রার্থনা। অব্যক্ত সে আবেদন কোন অজ্ঞাত মুহূর্তে শুনেছিলেন শ্রীসত্যানন্দ, কে জানে! স্নিগ্ধা মা’র বিবাহ হ’ল পিসেমশায়ের পুত্র কেদারদার সঙ্গে। ‘পৌত্তলিকতা’—বিরোধী ব্রাহ্ম বাড়ীর কন্যার সুপ্ত হিন্দুয়ানির সংস্কার জেগে উঠলো শ্রীঠাকুরের অলৌকিক কৃপার স্পর্শে। রূপ না মেনে কি উপায় আছে! ব্রহ্মের অনন্ত রূপ কল্পনাই তো ঐ বিগ্রহ, ঐ মূর্তি, ঐ প্রতিমা। সে কি পুতুল মাত্র? হায় মতিভ্রম! স্নিগ্ধা মা পেলেন রূপের স্বাদ, জাগ্রত জীবন্ত দর্শনের স্বাদ। স্নিগ্ধা মা’র বিশ্বাস, ভক্তি, শরণাগতি এবং নির্ভরতা আদর্শ হয়ে রয়েছে ভক্তজগতে। এ যে সেই অলৌকিক কৃপার ফসল যা ঠাকুর সত্যানন্দ ফলিয়েছেন অত্যন্ত গোপনে সন্তর্পণে। বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী প্রভুর জীবনে এরকম অলৌকিক লীলা ঘটেছিল বহুবার।
স্বামী মৃগানন্দের ‘অলৌকিক কৃপাময় সত্যানন্দ’ থেকে