গুয়াহাটি: এক অভিষেকে রক্ষা নেই, দোসর সূর্য নয়া রূপে! প্রথমজন হাফ-সেঞ্চুরিতে পৌঁছলেন ১৪ বলে। দ্বিতীয়জনের লাগল ২৫টি ডেলিভারি। রীতিমতো ছেলেখেলার মেজাজে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে টি-২০ সিরিজ পকেটে পুরল টিম ইন্ডিয়া। তৃতীয় ম্যাচে আট উইকেটে জয় এল ৬০ বল বাকি থাকতে। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ এগিয়ে থাকা ভারতের পরের লড়াই বুধবার বিশাখাপত্তনমে।
রবিবার ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে ধুন্ধুমার মেজাজে বিপক্ষকে চুরমার করলেন অভিষেক শর্মা। ঝড় তুললেন ঈশান কিষান এবং সূর্যকুমার যাদবও। ইনিংসের প্রথম বলে সঞ্জু স্যামসন বোল্ড হলেও দলীয় পঞ্চাশ এল মাত্র ৩.১ ওভারে। শুরুতে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন ঈশান। ছক্কা হাঁকানোর নেশায় তিনি (১৩ বলে ২৮) ফেরার পর অভিষেক হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য। সিরিজ জয়ের মঞ্চে ১৫৪ রানের টার্গেট তাড়া করে পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারেই ওঠে ৯৪! তারমধ্যে অভিষেকেরই ৫১। সেটাও ১৪ বলে! এই ফরম্যাটে কোনও ভারতীয়ের যা দ্বিতীয় দ্রুততম পঞ্চাশ। সামনে শুধুই গুরু যুবরাজ সিংয়ের ১২ বলে অর্ধশতরান। ভারতের একশো আসে মাত্র ৬.৩ ওভারে। আর জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছতে লাগল ঠিক দশ ওভার। অভিষেক শেষ পর্যন্ত ২০ বলে করলেন ৬৮। ৩৪০ স্ট্রাইক রেটে মারলেন সাতটি চার ও পাঁচটি ছক্কা। বিশ্বকাপের আগে তাঁর এমন গনগনে ফর্ম বাকি দেশগুলোর রক্তচাপ বাড়াতে বাধ্য। সঙ্গে যোগ হয়েছে ক্যাপ্টেন সূর্যের মোক্ষম সময়ে ছন্দে ফেরা। টানা দুটো ম্যাচে হাফ-সেঞ্চুরি এল তাঁর ব্যাটে। পরপর বাউন্ডারি মেরে সিরিজ জয়ে সিলমোহর দিলেন সূর্য। দুশোরও বেশি স্ট্রাইক রেটে ২৬ বলে তাঁর অপরাজিত ৫৭ রানে রয়েছে ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কা। তবে এমন পরাক্রমী জয়ের মধ্যেও কাঁটা হয়ে বিঁধছে তিন ম্যাচেই সঞ্জুর ব্যর্থতা। ওপেনার হিসেবে তাঁর বিদায়ঘণ্টা বাজলে তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি নিউজিল্যান্ডের। ইনিংসের তৃতীয় বলেই ফেরেন ডেভন কনওয়ে (১)। পরের ওভারে রাচীন রবীন্দ্র (৪) আউট। এরপর পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারের প্রথম বলে টিম সেইফার্টের স্টাম্প ছিটকে দেন যশপ্রীত বুমরাহ। ৩৪-৩ হওয়ার পর কিউয়িদের টানেন গ্লেন ফিলিপস ও মার্ক চ্যাপম্যান। চতুর্থ উইকেটে ওঠে ৫২ রান। কিন্তু বিষ্ণোইয়ের বলে চ্যাপম্যাপের (৩২) আউটে কাটে ছন্দ।
ওয়াশিংটন সুন্দরের চোটের জন্য স্কোয়াডে এসেছেন বিষ্ণোই। এই লেগস্পিনার বোঝালেন যে, তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া। তাঁর দ্বিতীয় শিকার ফিলিপস (৪৮)। চার ওভারে মাত্র একটি বাউন্ডারি দেন তিনি। সেটাও শিবম দুবের ফিল্ডিং ব্যর্থতায়। ভারতের সেরা বোলার অবশ্য বুমরাহ। চার ওভারে মাত্র ১৭ রানে তিন উইকেট নেন ‘বুমবুম’। বিপজ্জনক ড্যারিল মিচেল (১৪) এদিন রান পাননি। নিউজিল্যান্ডকে দেড়শোর গণ্ডি পার করেন ক্যাপ্টেন মিচেল স্যান্টনার (২৭)। অন্যথায়, দুর্দশা আরও বাড়ত কিউয়িদের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর- নিউজিল্যান্ড ১৫৩-৯ (ফিলিপস ৪৮, চ্যাপম্যান ৩২, স্যান্টনার ২৭, বুমরাহ ৩-১৭, বিষ্ণোই ২-১৮, হার্দিক ২-২৩)। ভারত ১০ ওভারে ১৫৫-২ (অভিষেক অপরাজিত ৬৮, সূর্য অপরাজিত ৫৭, ঈশান ২৮)।
ভারত ৮ উইকেটে জয়ী, সিরিজে এগিয়ে ৩-০ ব্যবধানে।