নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গভীর নিম্নচাপ শনিবার আরও সরে গিয়ে উত্তর ছত্তিশগড় ও লাগোয়া উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশের উপর চলে আসে। এর প্রভাবে শনিবার সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। তবে পশ্চিমবঙ্গে নিম্নচাপের প্রভাব কমছে। বৃষ্টির মাত্রা শনিবার কমে গিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, আজ, রবিবার বৃষ্টি আরও কমবে। আপাতত আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। তবে আজ উত্তরবঙ্গে দার্জিলিং জেলার কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তর পশ্চিম অভিমুখে দক্ষিণ-পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দিকে সরে যাওয়ার সময় আরও দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হবে। এর প্রভাবে উত্তরাখণ্ডেও বৃষ্টি বাড়বে। শক্তিশালী নিম্নচাপ থেকে প্রথমে প্রচুর বৃষ্টি হয় ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার একাংশে। তারপর বৃষ্টি বাড়তে শুরু করে ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্রের কিছু অংশ, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পূর্ব উত্তরপ্রদেশের খেড়ি জেলার মুহাম্মদিতে ৩৪০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন জায়গায়ও প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে এই সময়ে সবথেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে দুর্গাপুরে (৮৪.৮ মিমি)। দমদমেও ৬৮.২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। কলকাতায় (আলিপুরে) সেই তুলনায় কম, ৩৮.১ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বেলা বাড়ার পর দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি আরও কমে যায়। আবহাওয়াদিরা জানিয়েছেন, রাজ্যে আপাতত বর্ষাকালীন যে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, সেটাই চলবে।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মধ্য থাইল্যান্ড ও লাগোয়া মায়ানমারের উপর থাকা একটি ঘূর্ণাবর্ত আজ উত্তর আন্দামান সাগর ও লাগোয়া মায়ানমারের উপর আসবে। এই ঘূর্ণাবর্তটির জন্য ব্যাংককসহ থাইল্যান্ডের অনেক জায়গা অতিবৃষ্টিতে ভাসছে। তবে এই ঘূর্ণাবর্ত থেকে ভারতের দিকে কোনো সমস্যা হবে না বলে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন। এটি বাংলাদেশ-মায়ানমার উপকূল লাগোয়া উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের উপর আসবে। তবে এটি নিম্নচাপে পরিণত হবে না বলেই আপাতত মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
এদিকে, শক্তিশালী নিম্নচাপের প্রভাবে গত কয়েকদিনের অতিবৃষ্টিতে দেশে বর্ষাকালীন সার্বিক বৃষ্টির ঘাটতি ১৫ শতাংশ থেকে কমে ১২ শতাংশ হয়েছে। এই নিম্নচাপ আসার আগে অন্ধ্র, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ এলাকায় বর্ষার মরশুমের বৃষ্টির যে ব্যাপক ঘাটতি ছিল, তা কিছুটা কমেছে। তবে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, পশ্চিম রাজস্থান, গুজরাতের সৌরাষ্ট্র-কচ্ছ এলাকা, কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রের বড়ো অংশ ছাড়াও সম্ভবত বিহারও বৃষ্টির প্রচুর ঘাটতি নিয়ে বর্ষাকাল শেষ করতে চলেছে। মহারাষ্ট্র সরকার সেখানকার ২৬৫টি তালুকে ‘খরা’ ঘোষণা করে দিয়েছে বলে খবর।