নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ভারী বৃষ্টির জেরে নদীর জলস্তর বাড়ায় রবিবার ময়ূরাক্ষীর উপর থাকা অস্থায়ী কজওয়ে ভেসে গেল। মহম্মদবাজার ব্লকের আঙ্গারগড়িয়া পঞ্চায়েতের প্রায় ১২টি গ্রামের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নৌকায় ব্লকের সদর শহরের সঙ্গে ওই পঞ্চায়েতের ১২টি গ্রামের যোগাযোগ চলছে। যদিও ভারী বর্ষায় কী হবে তা ভেবে সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। চলাচলের সুবিধার্থে স্থায়ী সেতুর দাবিতে সুর চড়াতে শুরু করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
পঞ্চায়েত প্রধান সুকুমার হাঁসদা বলেন, স্থায়ী সেতুর জন্য আমরা একাধিকবার ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। কিন্তু শুধুই প্রতিশ্রুতি মিলছে। বাস্তবে সেতু গড়ে ওঠেনি। তবে শুনেছি স্থায়ী সেতু হবে। কিন্তু কবে হবে তা জানা নেই। সেতুটি তৈরি হলে বহু গ্রামবাসী উপকৃত হবেন।
মহম্মদবাজার ব্লকের আঙ্গারগড়িয়া পঞ্চায়েতের অধীন মামুদপুর থেকে বড়াম গ্রাম যাওয়ার পথে ময়ূরাক্ষী নদী রয়েছে। নদী পার হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই সেতুর দাবি থাকলেও তা হয়নি। প্রশাসন নদীর উপর হিউমপাইপ ফেলে মাটি দিয়ে কজওয়ে তৈরি করে দেওয়া হয়। ওই অস্থায়ী কজওয়ে ধরেই বড়াম, পাঁচপুকুর, খোদাই বাগান, নরসিংহপুর সহ মোট ১২টি গ্রামের বাসিন্দারা যাতায়াত করেন। তবে এদিন কজওয়ে ভেসে যাওয়ায় সকলেই বিপাকে পড়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাঝ নদীতে নৌকা চলাচল শুরু হয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই নৌকায় চেপে সাধারণ মানুষ যাতায়াত শুরু করেছেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ফি বছরই বর্ষায় ওই অস্থায়ী কজওয়ে ভেসে যায়। সেসময় নৌকা একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠে। যদিও ভারী বর্ষায় ওই পথে নৌকায় চেপে যাতায়াতও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। এদিন দুপুরে নদী পেরনোর জন্য নৌকার অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন শালুকার বাসিন্দা সইদুল্লা সিদ্দিকি। তিনি বলেন, কজওয়ে ভেসে যাওয়ায় খুবই সমস্যায় পড়তে হয়েছে। নৌকায় চেপে যাতায়াত করতে হচ্ছে। যা অনেকটাই সময়সাপেক্ষে বিষয়। আঙ্গারগড়িয়ার বাসিন্দা রামচন্দ্র মার্ডি বলেন, কজওয়ে ভেসে যাওয়ায় খুবই সমস্যা হচ্ছে। একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিলাম। নৌকায় চেপে যাতায়াত করতে হচ্ছে। যে কোনও সময় বিপদ ঘটে যেতে পারে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সেতু গড়ে তোলা প্রয়োজন। বীরভূম জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের জানানো হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। -নিজস্ব চিত্র