Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘দুর্বল’ মন-থা থেকেই আজ অতিবৃষ্টির ভ্রূকুটি উত্তরবঙ্গে

ঘূর্ণিঝড় ‘মন-থা’ স্থলভূমিতে ঢোকার পর ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।

‘দুর্বল’ মন-থা থেকেই আজ অতিবৃষ্টির ভ্রূকুটি উত্তরবঙ্গে
  • ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘূর্ণিঝড় ‘মন-থা’ স্থলভূমিতে ঢোকার পর ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। কিন্তু সেটির অবশিষ্টাংশের প্রভাবেই আজ শুক্রবার উত্তরবঙ্গের হিমালয় লাগোয়া চার জেলায় অতিবৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এজন্য ‘লাল’ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। অক্টোবর মাসের শুরু঩তেই  একটি নিম্নচাপের প্রভাবে অতিবৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও ডুয়ার্স এলাকায় দুর্যোগ পরিস্থিতি তৈরি হয়। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানি হয় এতে। ওই ঘটনার একমাস পেরোতে না পেরোতেই ফের একই এলাকায় অতিবৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্বভাবতই চিন্তিত রাজ্য প্রশাসন। কয়েকদিন আগে নবান্ন থেকে বৈঠক করে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ উত্তরবঙ্গের জেলা প্রশাসনগুলিকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। 

Advertisement

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস বৃহস্পতিবার জানান, বেশি মাত্রায় বৃষ্টির আশঙ্কা থাকলে লাল সতর্কতা জারি করা হয়। এর মাধ্যমে বিপর্যয় মোকাবিলা করার জন্য ‘অ্যাকশন মোডে’ নেমে যাওয়ার পরমার্শ দেওয়া হয়। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির (২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৭০ থেকে ২০০ মিমি) লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলার কোনও কোনও জায়গায় আরও বেশি বৃষ্টি (২০০ মিমি-র অধিক) হতে পারে। ভারী ও অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও ‘কমলা’ সতর্কতা থাকছে কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুর জেলায়। কমলা সতর্কতার অর্থ হল, বিপর্যয় পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকা। গত কয়েকদিন ধরে পাহাড় লাগোয়া কয়েকটি জেলায় কমলা সতর্কতাই দেওয়া হচ্ছিল। সেটা বৃহস্পতিবার লাল সতর্কতা করেছে আবহাওয়া দপ্তর। বেশি বৃষ্টির জেরে পাহাড়ে ধস নামা, নীচু এলাকা জলমগ্ন হওয়া, তিস্তা-জলঢাকা-তোর্সা প্রভৃতি নদীতে জলস্তর বৃদ্ধি, মাঠে ফসলের ক্ষতি প্রভৃতির আশঙ্কা আছে বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। 
এদিকে ‘মন-থা’-র প্রভাব পুরোপুরি কাটার আগেই আগামী শনিবার নাগাদ উত্তর আন্দামান সাগর ও লাগোয়া পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে শনিবার নাগাদ ফের একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে চলেছে। তাদের দীর্ঘকালীন পূর্বাভাসে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। এটির অভিমুখ পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে থাকবে।  গত কয়েকদিন ধরে ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টি হচ্ছিল। উত্তরবঙ্গে তখন বৃষ্টি প্রায় হচ্ছিল না। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকেই উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে শুরু করেছে। দক্ষিণবঙ্গেও শুক্রবার মুর্শিদাবাদ ও  বীরভূম জেলার কোনও কোনও জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের অবিশষ্টাংশের প্রভাবে আগামী রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তারপর আবহাওয়া পুরোপুরি পরিষ্কার হবে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দক্ষিণবঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চার হচ্ছে। তাই রোদ ওঠার পরে কোনও কোনও স্থানে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যাচ্ছে এবং কয়েক পশলা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃহস্পতিবারও কলকাতা ও বিভিন্ন জেলার কিছু জায়গায় এমনটা হয়েছে। 
ঘূর্ণিঝড়টি এদিন সকালে দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপ হিসেবে দক্ষিণ ছত্তিশগড়ের উপর ছিল। এটি উত্তর অভিমুখে এগিয়ে উত্তর ছত্তিশগড় ও লাগোয়া মধ্যপ্রদেশের উপর এসে আরও দুর্বল এবং আজ সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হবে। তা সত্ত্বেও বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর থেকে জলীয় বাষ্প এই নিম্নচাপের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় এটি বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও বেশি বৃষ্টি দেবে। তার মধ্যে আছে হিমালয় লাগোয়া উত্তরবঙ্গ ও সিকিম এবং বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ের কিছু এলাকা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ