নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি থামার কোনও লক্ষণ দেখা গেল না শুক্রবার দিনভর! কখনও ঝিরঝিরে, কখনও মুষলধারে বৃষ্টি হয়েই চলেছে। লাগাতার বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে কলকাতা ও সল্টলেকের বিভিন্ন অঞ্চল। বৃষ্টির শব্দ কানে নিয়ে যাঁরা রাতে ঘুমোতে গিয়েছিলেন, সকালে ঘুম ভেঙেও তাঁরা বৃষ্টির শব্দই শুনেছেন। আর অবাক হয়ে দেখেছেন, বাড়ির সামনের রাস্তা যেন নদীর চেহারা নিয়েছে! জল থইথই চারপাশ। এরপর পড়ুয়াদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া, চাকুরিজীবীদের কর্মস্থলে যাওয়া, স্কুল ছুটির পর ছাত্রছাত্রীদের ঘরে ফেরানো—প্রতিটি দৈনন্দিন কাজকর্মই ব্যাহত হয়েছে। রাস্তায় হাঁটতে গেলে নামতে হয়েছে হাঁটুসমান জলে। রাস্তায় জল থাকায় বাস-ট্যাক্সিও এগিয়েছে শামুকের গতিতে। সব মিলিয়ে ভোগান্তির একশেষ হতে হয়েছে মানুষকে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত বৃষ্টি চলবে। দক্ষিণবঙ্গের উপর থাকা গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে আজ, শনিবার দুপুর পর্যন্ত কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। নিম্নচাপটি ক্রমশ উত্তর ওড়িশা হয়ে ঝাড়খণ্ড-ছত্তিশগড়ের দিকে সরে যাচ্ছে। তাই আজ দুপুরের পর বৃষ্টির মাত্রা কিছুটা কমলেও ৩১ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার দুই ২৪ পরগনা জেলার কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, নিম্নচাপ সরে গেলেও মৌসুমি অক্ষরেখা দক্ষিণবঙ্গের উপর সক্রিয় থাকার কারণে বৃষ্টি চলবে।
শুক্রবার সকালেই গভীর নিম্নচাপটি দক্ষিণবঙ্গের উপকূল সংলগ্ন এলাকার উপর চলে আসে। দুপুর নাগাদ সেটি কলকাতা থেকে ৬০ কিলোমিটার ও ক্যানিং থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। মৌসুমি অক্ষরেখার অবস্থান ছিল কলকাতার উপর। এই কারণেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে বৃষ্টিপাত বাড়ে। গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হওয়ায় পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে প্রচুর বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সল্টলেক এলাকায় ১৬৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। সেক্টর ফাইভ সহ অন্যান্য অংশে প্রায় সব রাস্তাই জলের তলায় চলে যায়। রাজারহাট, নিউটাউনেও ছিল দুর্ভোগের একই ছবি। সল্টলেকের ই সি ব্লকের রাস্তার জমা জলে ‘সাঁতার’ কেটে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় কয়েকজন বিজেপি কর্মীকে। দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ অংশে সেভাবে জল না জমলেও বেহালা, ই এম বাইপাস সংলগ্ন কিছু অংশে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। উত্তর কলকাতার বড় অংশই টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এম জি রোড, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে জল জমে যাওয়ায় সারাদিন তীব্র যানজটে জেরবার হতে হয়েছে যাত্রীদের। হাঁটুসমান জল জমে যায় ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, মুক্তারামবাবু স্ট্রিট, আমহার্স্ট স্ট্রিট, ফলপট্টি, কলেজ স্ট্রিট, কনভেন্ট রোড, উল্টোডাঙা, চাঁদনি চক মেট্রো স্টেশনের সামনের অংশে। বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিট, স্ট্র্যান্ড রোডও জলমগ্ন ছিল। পুরসভার নিকাশি বিভাগের মেয়র পারিষদ তারক সিং বলেন, ‘টানা ভারী বৃষ্টি এবং গঙ্গায় ভরা কোটালের জোয়ার—মূলত এই দুই কারণেই অনেক জায়গায় জল নামতে দেরি হচ্ছে। কর্মীরা খুব ভালো কাজ করেছেন।’