সংবাদদাতা, হলদিয়া: গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার মন্ত্রী এসে পৌঁছতেই অতিবৃষ্টির বিপর্যয় মোকাবিলায় তোড়জোড় শুরু হল হলদিয়া পুরসভায়। জল সেঁচতে দৌড়-ছুট করে জোগাড় করে আনা হল পাম্প মেশিন। আজ, শুক্রবার দুপুরের পর থেকে হলদিয়ার বিভিন্ন ক্যানেলের হলদি ও হুগলি নদী সংলগ্ন লকগেটে শুরু হয় নজরদারি। কীভাবে শিল্পশহরে জমে থাকা বৃষ্টির জল নামানো যায় তা নিয়ে পর পর মিটিংয়ে বসেন পুর প্রশাসক তথা মহকুমাশাসক সুরভি সিংলা ও আধিকারিকরা। কিন্তু তার আগে বিপর্যয় মোকাবিলায় পুর কর্তৃপক্ষ বা মহকুমা প্রশাসনের কোনও হেলদোল ছিল না বলে অভিযোগ। নামকেওয়াস্তে কন্ট্রোল রুম খোলা হলেও তার সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
তবে বিধায়ক প্রদীপ বিজলির ওয়ার্ড ভিত্তিক টিম রীতিমতো ঝাঁপিয়ে পড়ে ত্রাণ শিবিরে বয়স্কদের পৌঁছনো, শিবিরে দু'বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। বেশিরভাগ ওয়ার্ডে গ্রাম কমিটির উদ্যোগেই নিকাশি নালা ও ক্যানেল পরিস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। পুর কর্তৃপক্ষের দেখা মেলেনি বলে অভিযোগ। এদিন সকাল ১০টা নাগাদ সিটি সেন্টারে হলদিয়া পুরসভা অফিসে এসে পৌঁছন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। এছাড়াও ছিলেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। তাঁরা পুর প্রশাসকের সঙ্গে বিপর্যয় মোকাবিলা মিটিংয়ে বসেন। পুর এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে বিশদে জানতে চান মন্ত্রী। পুর প্রশাসক ও ইঞ্জিনিয়াররা তাঁকে পুরসভার ম্যাপ নিয়ে নিকাশির বিষয়টি তুলে ধরেন। কীভাবে দ্রুত শহরের মানুষকে জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়া যায়, তার ব্যবস্থা করতে পরামর্শ দেন মন্ত্রী। ঘণ্টাখানেক মিটিংয়ের পর তিনি হলদিয়ার রানীচক বিবেকানন্দ গভর্নমেন্ট স্পনসর্ড হাইস্কুলের ত্রাণ শিবিরে দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রশাসন সব রকমভাবে দুর্গতদের পাশে রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী।
পুর প্রতিমন্ত্রী অতিবৃষ্টিতে হলদিয়া শহরের এই দুর্ভোগের দায় চাপিয়েছেন বিগত তৃণমূল সরকারের উপর। এদিন তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হলদিয়া শিল্পশহরের বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার জন্যই মানুষকে জলযন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে। জল নিকাশির জন্য টাকা ঠিকভাবে খরচ হয়নি। নাগরিক পরিষেবার নামে তৃণমূল সরকার টাকা লুট করেছে। আমার পাড়া আমার সমাধান, পথশ্রীর নামে অযথা টাকা খরচ করে রাস্তা উঁচু করেছে, কিন্তু নিকাশির জন্য খরচ করেনি। অনেক জায়গায় কাজ না করে টাকা চুরি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক বছর বর্ষার আগে নিকাশি সংস্কারে প্রি-মনসুন কাজ হয়। এবছর কাগজে কলমে সেই কাজ হয়েছে, আসল কাজ হয়নি। সেজন্যই মানুষকে ভুগতে হচ্ছে। এদিন মন্ত্রী হলদিয়াবাসীকে আস্বস্ত করেন, আগামীদিনে আর বৃষ্টিতে কখনও হলদিয়া ডুববে না। সেজন্য সেচ দপ্তর, বন্দর কর্তৃপক্ষ, রেল, পুরসভা, এইচডিএ-কে নিয়ে যৌথ প্ল্যানিং করে নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি করা হবে। এদিন পুরসভায় মিটিংয়ের সময়েই সেচমন্ত্রী অরূপ দাসকে ফোন করে হলদিয়ার সমস্যার কথা জানান। জেলাশাসক বলেন, জল কমলেই সেচ দপ্তর সহ অন্যান্যদের নিয়ে আমরা মিটিং করব। হলদিয়ার কমপ্রিহেন্সিভ ড্রেনেজ প্ল্যানিং করা হবে।
ত্রাণ শিবিরগুলিতে পুরসভা ও স্থানীয় মানুষজন সকলে মিলে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। জানা গিয়েছে, পুরসভার ১১ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড বাদ দিয়ে বাকি ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ৪৫টি ত্রাণ শিবির চলছে। এদিনও দিনভর বৃষ্টি হওয়ায় স্কুল, কলেজ কার্যত বন্ধ ছিল। সিংহভাগ প্রাইমারি স্কুল জলমগ্ন। হলদিয়ার বাড়ঘাসিপুর ব্লক প্রাথমিক কেন্দ্র জলের তলায়। টাউনশিপ এলাকার বাজার, ব্যাঙ্কের মধ্যে জল ঢুকে যাওয়ায় পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। এদিন মহকুমাশাসকের অফিসের সামনে রাস্তায় সামান্য জমা জল তুলতে দমকলের ইঞ্জিন এনে জল পাম্প করে তোলার ঘটনায় মানুষজন প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, পুরসভা চত্বর জলে ডুবে আছে, সেখানে পাম্প না বসিয়ে এভাবে সরকারি অর্থ কেন অপচয় করা হচ্ছে। বালুঘাটা এলাকায় মূল নিকাশি ক্যানেল চুনামারা খালের লকগেটে পুরসভার নজরদারি না থাকায় জোয়ারের জল শহরে ঢুকে পড়ছে বলে বাসিন্দারা অভিযোগ করেন।