নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বঙ্গোপসাগরের অতিগভীর নিম্নচাপটি পশ্চিমবঙ্গ উপকূল থেকে অনেক দূরে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপট্টনম দিয়ে বুধবার রাতে স্থলভূমিতে প্রবেশ করে। দূরে থাকলেও শক্তিশালী নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার রাজ্যে বৃষ্টি বেড়েছে, বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে। উপকূল লাগোয়া ও কাছাকাছি এলাকার পাশাপাশি প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতেও। ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতায় জল জমার বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করে আবহাওয়া দপ্তর। কলকাতা ও জেলাগুলিতে সারাদিন ধরে দফায় দফায় বৃষ্টি চলে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতা (আলিপুরে) ৮০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। এইসময়ে রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ৯৫.৬ মিমি বৃষ্টি হয়েছে বাঁকুড়ার কংসাবতীতে। পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলাতেও ৯০ মিমির বেশি বা তার আশপাশে বৃষ্টি হয়েছে। উপকূল এলাকায় ছিল জোরালো হাওয়া।
আজ শুক্রবার বৃষ্টি হবে। দুই মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান ও উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বেলার দিকে আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে। শুক্রবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না-যাওয়ার পরামর্শ থাকছে। শনিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে আর ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। তবে হালকা ও মাঝারি মাত্রায় বৃষ্টি চলবে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, বর্ষা মরশুমের মৌসুমি বায়ু এখনও সক্রিয়। এইসময় দূরে শক্তিশালী নিম্নচাপ তৈরি হলেও তার প্রভাব বেশি পড়ে। বায়ুপ্রবাহের গতিপ্রকৃতিও পরিস্থিতির উপর প্রভাব ফেলে। সব মিলিয়ে নিম্নচাপ দূরে থাকলেও এই সব কারণে রাজ্যে বৃষ্টি বেশি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে অতিগভীর নিম্নচাপটি উপকূলীয় অন্ধ্র ও লাগোয়া দক্ষিণ ওড়িশার উপর ছিল। এটি উত্তর-উত্তর পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার পথে দুর্বল হতে শুরু করবে। অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫৫-৬৫ কিমি। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ৭৫ কিমি পর্যন্ত ওঠে। হাওয়ার গতিবেগ নির্দিষ্ট সময়ে ৬২ কিমি স্পর্শ করলে সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ের তকমা দেওয়া হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী এটিকে ‘ঘূর্ণিঝড়’ বলেনি। যদিও আন্তর্জাতিক সাইক্লোন সেন্টার অবশ্য এটিকে ঘূর্ণিঝড়ই বলেছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত উপকূলীয় অন্ধ্র ও ইয়ানাম, ওড়িশা এবং তেলেঙ্গানায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। অন্ধ্রের বিশাখাপত্তনমে সর্বোচ্চ ২৮০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জায়গায় ১০০ মিমি বা তার বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। নিম্নচাপটি ক্রমশ দুর্বল হলেও আগামী কয়েকদিন এর প্রভাবে পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও নেপালে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।