নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এল নিনো পরিস্থিতির মধ্যে বর্ষা মরশুমে দেশে আবহাওয়ার ‘খামখেয়ালিপনা’ দেখা যাচ্ছে। দেশের একটা অংশে যখন বর্ষা ঢুকে পড়েছে তখন অন্য অংশে কিছুটা বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে পশ্চিমি ঝঞ্ঝার কল্যাণে। পশ্চিমি ঝঞ্ঝা এক ধরনের নিম্নচাপ যা ভূমধ্যসাগরে সৃষ্টি হয়ে ইরান-আফগানিস্তান-পাকিস্তান পার করে পশ্চিম হিমালয় এলাকায় এসে তুষারপাত ও বৃষ্টি দেয়। ঝঞ্ঝা শক্তিশালী হলে তার প্রভাব উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে পড়ে। সাধারণত এপ্রিল মাস থেকে ঝঞ্ঝা আসা কমে যায়। কিন্তু জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে পশ্চিম হিমালয় এলাকায় একটি পশ্চিমি ঝঞ্ঝা হাজির হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, মধ্য ভারতে বর্ষা দুর্বল হলে পশ্চিমি ঝঞ্ঝার সক্রিয়তা বাড়ে। এল নিনো পরিস্থিতির জন্য এবার দেশের মধ্যে মধ্য ভারত ও লাগোয়া এলাকায় বৃষ্টি সবথেকে কম হবে। নির্ধারিত সময় পেরোলেও এখনো মৌসুমি বায়ু মধ্য ভারত ও লাগোয়া উত্তর ভারতে প্রবেশ করেনি। আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যেও তেলেঙ্গানা, বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ডের আরো কিছু অংশ এবং ছত্তিশগড়ের কিছু জায়গায় বর্ষা প্রবেশের সম্ভাবনা থাকছে। এখনো পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব ভারতের পুরো অংশ, তামিলনাড়ু, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে সামগ্রিকভাবে বর্ষাকাল শুরু হয়েছে। যদিও ওইসব এলাকাতেও বর্ষা খুব সক্রিয় নয়।
পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে সিকিম, উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও লাগোয়া এলাকাতেও বৃষ্টিপাত হয়। পাহাড়ের খুব উঁচু জায়গাতে তুষারপাতের সম্ভাবনা থাকে। আবহাওয়া দপ্তর আগামী কয়েকদিন রাজ্যের মধ্যে শুধু উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও লাগোয়া এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং, কালিম্পং জেলায় ‘কমলা’ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প ঢুকে পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে ওইসব এলাকায় শক্তিশালী বৃষ্টির মেঘ সৃষ্টি করছে। এদিকে, কলকাতা ও লাগোয়া এলাকায় মঙ্গলবার বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। তুলনায় দুর্গাপুর, বর্ধমানে ভালো বৃষ্টি হয়েছে। এদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত পানাগড়ে ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।