নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: নিম্নচাপের জেরে প্রবল ঝড় বৃষ্টির আশঙ্কা শিল্পাঞ্চলজুড়ে। আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা অনুযায়ী, জেলাজুড়ে কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝড় বইতে পারে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সব রকম প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। বুধবার প্রশাসনের সব দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমা শাসকরা। বৃহস্পতি ও শুক্রবার নদীতে খেয়া পারাপার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিটি ব্লকের বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। যাঁরা বিপর্যয় মোকাবিলার কাজ করবে। ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে কন্ট্রোল রুম।
কিন্তু, জেলা প্রশাসনের সবচেয়ে মাথা ব্যথার কারণ শহরের নিকাশি ব্যবস্থা। আসানসোলের বিপর্যস্ত নিকাশি ব্যবস্থার জন্য সামান্য বৃষ্টিতেই ভেসে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। হটন রোড থেকে রেলপার জলের তলায় চলে যায়। এই অবস্থায় এদিনের বৈঠকে দুর্যোগ নিয়ে পুরসভাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। বড় নালা ও নদীগুলি থেকে দ্রুত আবর্জনা পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাকে। ঝড়ে শহরে গাছ উপড়ে পড়ে। তা এড়াতে বিশেষ টিম রাখতে বলা হয়েছে। এদিন বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের ভলান্টিয়ারদের ট্রি কাটিংয়ের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, জেলায় অতিভারী বৃষ্টির পূর্বভাস রয়েছে। আমরা পুরসভাগুলিকে নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক করেছি। প্রতি ব্লকের বিশেষ টিম থাকবে। কোনও বিপর্যয় হলে দ্রুত তারা পদক্ষেপ নেবে।
প্রসঙ্গত, কয়েক বছর আগে অতি ভারী বৃষ্টিতে আসানসোল রেলপাড়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তাতে চারজনের প্রাণ যায়। তারপরই গাড়ুই নদী সংস্কারের দাবি উঠেছিল। পাশাপাশি গাড়ুই নদী জবরদখল করে থাকা মানুষদের উচ্ছেদের দাবি দীর্ঘদিনের। সংস্কারের কাজ কিছুটা শুরু হলেও জখরদখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। অন্যদিকে একইভাবে নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল থাকায় হটন রোড সহ বিস্তীর্ণ অংশ জলের তলায় চলে যায়। পুরসভা সেখানে জবরদখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিলেও শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে আসে।