নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ঘিঞ্জি বাণিজ্যিক এলাকায় খোদ হাওড়া পুরসভার পাশেই দিনে দুপুরে বহুতলের ছাদে চলছিল নির্মাণকাজ। অথচ সেই কাজ চলাকালীন ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানা হয়নি বলে অভিযোগ। তারই মর্মান্তিক পরিণতিতে ছাদ থেকে লোহার পাইপ পড়ে মঙ্গলবার মৃত্যু হল দু’জনের। হাওড়া পুরসভা সংলগ্ন হাওড়া ট্রেড সেন্টারে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ফের একবার নির্মাণক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও পুরসভার নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বহুতলের ছাদে নতুন করে ভারী নির্মাণের জন্য আদৌ পুরসভার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুরসভার পাশেই গড়ে উঠেছে ১৩ তলা এই ট্রেড সেন্টারটি। করোনা পর্বের কিছু আগে পুরসভার নিজস্ব জমিতেই এটি গড়ে তোলা হয়। একটি নির্মাণকারী সংস্থা এই কাজের দায়িত্বে ছিল। তাদেরই লিজ দিয়েছিল পুরসভা। হাটের পুরনো বিল্ডিংগুলির জীর্ণ অবস্থা ও স্থানাভাবের কারণেই এই আধুনিক ট্রেড সেন্টার তৈরি করা হয়েছিল। এই বিল্ডিংয়ের প্রথম চারটি তলায় ব্যবসায়ীদের গদি, দোকান ও কাপড়ের গোডাউন রয়েছে। উপরের তলাগুলিতে রয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার অফিস। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিল্ডিংয়ের ছাদের উপরে একটি অস্থায়ী ছাউনি ছিল। সম্প্রতি সেই ছাউনি ভেঙে সেখানে ভারী নির্মাণের প্রস্তুতি চলছিল। মঙ্গলবার দুপুরে ছাদের একটি প্রান্তে শ্রমিকরা গ্যাস কাটার দিয়ে লোহার পাইপ কাটছিলেন। অভিযোগ, এত বড়ো ও ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজ চললেও কোনো সেফটি নেট, ডেব্রিস নেট বা ক্যানোপি ব্যবহার করা হয়নি। ফলে আচমকা একটি লোহার পাইপ ফসকে নীচে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।দুর্ঘটনার পর ছাদে গিয়ে দেখা যায়, উপরের অংশে অসংখ্য লোহার পাইপ, রড ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সুরক্ষা ব্যবস্থার অভাবও চোখে পড়ে সেখানে। হাওড়া পুরসভার বিল্ডিং দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘বহুতলের উপর এই ধরনের ভারী কাজের ক্ষেত্রে চারপাশে ডেব্রিস নেট ও নীচে মেটাল শিট বসানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি।’ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুরসভা। -নিজস্ব চিত্র