Bartaman Logo
১৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

নির্বাচনের উত্তাপে উত্তেজিত? চটজলদি ঠাণ্ডা হবেন কীভাবে?

একে গ্রীষ্মকাল, তায় ভোটের বাজার। রোদের তেজ তো বটেই, রাজনৈতিক বিতর্কও যখন তখন উত্তেজনার কারণ হয়ে উঠছে। ঠিক সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করলেই বিপদ।

নির্বাচনের উত্তাপে উত্তেজিত? চটজলদি ঠাণ্ডা  হবেন কীভাবে?
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

একে গ্রীষ্মকাল, তায় ভোটের বাজার। রোদের তেজ তো বটেই, রাজনৈতিক বিতর্কও যখন তখন উত্তেজনার কারণ হয়ে উঠছে। ঠিক সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করলেই বিপদ। যেকোনো সময় হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক কিছু হতে পারে। কীভাবে চটজলদি নিজেকে ঠাণ্ডা করবেন? পরামর্শ দিলেন আরজি কর মেডিকেল কলেজের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ডাঃ বিশ্বজিৎ মজুমদার ও বেঙ্গালুরুর অ্যাসটর আর ভি হাসপাতালের চিফ ফিজিওথেরাপিস্ট পলক ডেঙ্গলা।

Advertisement

এবারের ভোটে পাল্লাভারী কার? সর্বত্র একই আলোচনা চলছে। কথায় কথায় কখন বিতর্ক চরমে পৌঁছবে বোঝার উপায় নেই। তার জেরে উত্তেজিত হয়ে পড়াও নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই উত্তেজনা শরীরের ক্ষতি করলেই সমস্যা। বিষয়টা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কার্যকর হতে পারে সঠিকভাবে শ্বাস নেওয়া। বিজ্ঞান বলছে, আমরা দিনে প্রায় ২০ হাজার বার শ্বাস নিই। কিন্তু ক’জন ঠিকমতো শ্বাস নিই? আসলে, শ্বাস নেওয়ার পদ্ধতিও যে ভুল বা ঠিক হতে পারে, সেই ধারনা আমাদের অনেকের নেই। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের ৬০–৮০ শতাংশের শ্বাসপ্রশ্বাসের ধরন ত্রুটিপূর্ণ। 
৫টি কার্যকর শ্বাসপ্রশ্বাসের কৌশল,
১. ডায়াফ্রাগম্যাটিক ব্রিদিং (পেটের মাধ্যমে শ্বাস নেওয়া)
ডায়াফ্রাম হল ফুসফুসের নীচে থাকা গম্বুজাকৃতির একটি পেশি। এই কৌশলে, নাক দিয়ে শ্বাস নিলে পেট ফুলে ওঠে। এতে ডায়াফ্রাম সঠিকভাবে কাজ করে।
উপকারিতা: রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন কমায়, শরীরকে গভীরভাবে শিথিল করে।
২. বক্স ব্রিদিং
এক থেকে চার অবধি গুনে শ্বাস নেওয়া। একইভাবে চার গোনা অবধি শ্বাস ধরে রাখা এবং শ্বাস ছাড়ার সময়ও এক থেকে চার গোনা। অর্থাৎ চার-চার-চার, এই ছন্দে শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া। 
উপকারিতা: এতে স্নায়ুতন্ত্র  শান্ত হয়, উদ্বেগ কমে। চাপের পরিস্থিতিতে মানসিক নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে বিশেষ সহায়ক এই পদ্ধতি।
৩. অল্টারনেট নস্ট্রিল ব্রিদিং (এক দিকের নাক বন্ধ রেখে শ্বাস নেওয়া) 
 নাকের একদিকের ছিদ্র বন্ধ রেখে শ্বাস নেওয়া। তারপর সেই দিকটা খুলে অপরদিক বন্ধ রেখে শ্বাস নেওয়া। 
উপকারিতা: মুহূর্তের মধ্যে আবেগ, রাগ নিয়ন্ত্রণে আসে। এই অভ্যাসে মস্তিষ্কের দুই হেমিস্ফিয়ারের ভারসাম্যও বজায় থাকে। 
৪. ৪–৭–৮ ব্রিদিং
চার গুনে শ্বাস নেওয়া, সাত সেকেন্ড ধরে রাখা, আট অবধি গুনতে গুনতে ছাড়া।
উপকারিতা: এতে ভেগাস নার্ভ উদ্দীপিত হয়। উদ্বেগ কমে, স্নায়ুতন্ত্র শান্ত হয়। 
৫. হামিং ব্রিদিং 
স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিয়ে, ছাড়ার সময় মৃদু গুঞ্জন করা।
উপকারিতা: নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদন বাড়ায়। সাইনাস পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। ভেগাল টোন বাড়িয়ে প্রশান্তি আনে।
কখন ইমার্জেন্সি? কী করবেন? 
অর্থাৎ সঠিকভাবে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস করলেই উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদযন্ত্রের কোনো সমস্যা থাকলে বিপদ হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে সুস্থ মানুষেরও আচমকা উত্তেজনা বা মানসিক চাপ হলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে টোকোসোবো মায়োপ্যাথি বলে। প্রাথমিক লক্ষণ বুকে ব্যথা। 
সঙ্গে সঙ্গে ইসিজি পরীক্ষা করে দেখতে হবে হার্টের অবস্থা। তবে রোগী অজ্ঞান হয়ে গেলে মুখে চোখে জল দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে মাটিতে শুইয়ে দুই পা একটু উঁচুতে তুলে ধরতে হবে। এমনটা করলে হৃদপিণ্ডে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক হয়। খেয়াল রাখতে হবে শরীরে জল ও ঘুমের ঘাটতি যেন না থাকে। রোদে বেরোলে সবসময় জল সঙ্গে রাখতে হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর তা পান করতে হবে। 
লিখেছেন শুভদীপ রায়

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ