নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বিধায়কের দরবার! আর সেখানে বসে নাগরিকদের অভাব-অভিযোগ শুনতে গিয়ে নিজের দলের বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়ার ক্ষোভের মুখেই পড়তে হল রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে। ইস্যু সেই তোলাবাজি-সিন্ডিকেট। তা নিয়ে বিধায়ক বনাম মন্ত্রীর তুমুল বিতণ্ডাও চলে। দুই জনপ্রতিনিধির এহেন বেনজির ঝগড়ায় ব্যাপক অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। দলের বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের অবশ্য সাফাই, ‘শারদ্বতবাবু রাজনীতিতে নবাগত, আবেগপ্রবণ। কিছু লোক এবং সংবাদমাধ্যম তাঁকে খেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন, এটা ঠিক হচ্ছে না। পীযূষ কানোরিয়া দীর্ঘদিনের পার্টিকর্মী। অনেক কঠিন নির্বাচন তিনি লড়াই করে জিতে এসেছেন। বিজেপির বিধায়কদের মধ্যে কোনো সংঘাত নেই।’
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লেকটাউন সংলগ্ন দমদম পার্কে ‘বিধায়কের দরবার’ ছিল বিধাননগরের এমএলএ তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বতবাবুর। আচমকাই সেখানে হাজির হন দমদম পার্কের বাসিন্দা তথা রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক পীযূষবাবু। শারদ্বতবাবু তখন তাঁকে ‘পার্শ্ববর্তী বিধানসভার বিধায়ক’ বলে সম্বোধন করায় গোঁসা হয়ে যায় পীযূষবাবুর। মঞ্চে না উঠে নীচেই বসে পড়েন। শারদ্বতবাবু উঠে দাঁড়িয়ে বারবার বলতে থাকেন, ‘পীযূষদা, আপনি মঞ্চে উঠে আসুন।’ নীচ থেকে পীযূষবাবু বলতে থাকেন, ‘আপনি মিটিং শুরু করুন! আমি বিধায়ক হিসাবে আসিনি। এলাকাবাসী হিসাবে এসেছি।’ এর মধ্যেই পীযূষবাবুর সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি মঞ্চের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলেন, ‘এ তো তৃণমূলের কাউন্সিলার ছিল! এখানে কী করছে?’ তখন একজন পীযূষবাবুকে থামতে বললে, তিনি আঙুল তুলে কথা বলতে শুরু করেন। ভিডিয়ো না করার ধমকও দেন। শারদ্বতবাবু নেমে এসে পীযুষবাবুকে মঞ্চে টেনে নিয়ে যান।
মঞ্চে গিয়েও পীযূষবাবুর ক্ষোভ কমেনি। মাইক্রোফোন হাতেই বলতে থাকেন, ‘আমরা এতদিন যাঁদের ঢুকতে দিইনি, রাজনৈতিকভাবে তাঁদের আবার ঢোকানো হচ্ছে কেন? আপনি এখানে পার্টি অফিস করবেন, করুন। কিন্তু, যে বোমা-বন্দুক নিয়ে আমাদের উপর হামলা করেছে, তাকে আপনার পাশে বসে থাকা লোকেরা আবার এলাকায় ঢোকাচ্ছে! এলাকায় ঢুকে মহিলাদের উপর অত্যাচার করছে।’ এরপরই সিন্ডিকেট নিয়ে সরব হন পীযূষবাবু। এলাকায় তোলাবাজির ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘প্রতিটা প্রোমোটার জানে, আমি কাউকে সিন্ডিকেট চালাতে দিইনি। কিন্তু, এখন প্রোমোটারকে ফোন করে ডাকা হচ্ছে! কেন? দক্ষিণ দমদমের ১৮টি জায়গার কাজের বরাত একজনই পেয়েছেন। কেন?’ শারদ্বতবাবু বলেন, ‘কোথাও বলব না, আমার এখানে সব ভালো! চারমাস পরে এসেছি, তাই ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি। এখানে ৯০ শতাংশ চিঠিতেই প্রেরক নিজের নাম লিখতে অনিচ্ছুক। তার মানে আমরা ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ করতে পারিনি! আমি চেষ্টা করব পরেরবার নামহীন চিঠির সংখ্যা কমাতে।’ পরে তিনি বলেন, ‘পড়শি বিধায়ক এসেছিলেন। আমাকে সাহায্যও করে গিয়েছেন।’ সাংবাদিকের সামনে পীযূষবাবু অবশ্য সরাসরি বলেছেন, ‘দক্ষিণ দমদমে কাউকে সন্ত্রাস চালাতে দিইনি। কেউ সেই চেষ্টা করলে আমি ছেড়ে কথা বলব না।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘ভয় আউট’ না করতে পারাকে কুণাল ঘোষের খোঁচা, ‘বাংলায় জঙ্গলরাজ, পুলিশরাজ চলছে। প্রকৃত বিরোধীদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন।’