নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘জুলাই শেষ হতে এখনও সপ্তাহখানেক বাকি। কিন্তু বর্ষার কি গোঁসা হয়েছে? তাই অপেক্ষা করল না, বিদায় নিল বাংলা ছেড়ে? আর পালিয়ে তো গেলই উল্টে উপহার দিয়ে গেল বস্তাপচা গরম!’ বুধবার দিনভর প্রবল তাপে হাসফাঁস করতে করতেও এসব বলে রসিকতা চালিয়ে গেল কলকাতা।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে ১.২ ডিগ্রি বেশি। সর্বোচ্চ আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৯২ শতাংশ। এথচ এই মাত্র কয়েক দিন আগে প্রবল বৃষ্টিতে ভিজে, জমা জল ডিঙিয়ে হাঁটাচলা করতে হয়েছে মানুষকে। এদিনও তাঁদের ভিজতে হয়েছে। তবে ঘামে। ঘর্মাক্ত অবস্থায় নাজেহাল হতে হয়েছে বাচ্চা থেকে বুড়ো। আবহাওয়ার এই খেয়ালখুশি মতিগতি দেখে কপালে জমছে চিন্তার ভাঁজ। বর্ষার বাকি দিনগুলি কী যে হবে, ভেবে শিউরে উঠছেন অনেকে।
আবহাওয়াবিদদের বক্তব্য, ‘বর্ষার বৈশিষ্ট্য বদলেছে। আজকাল বৃষ্টির জন্য নিম্নচাপের উপর নির্ভর করতে হয়। তাই নিম্নচাপ উধাও হলেই প্রবল গরম।’ এর জন্য অবশ্য বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনকে কারণ বলেন। বলেন অপরিকল্পিত নগরায়ণের কথাও।
বুধবার সকালে ভিড় বাসে উঠে অফিস যেতে যেতে সকলে টের পেয়েছেন গতিক সুবিধের নয়। গল গল করে ঘামতে ঘামতে এক ব্যক্তি বললেন, ‘এটা নাকি বর্ষাকাল? এখন যা ঘাম হচ্ছে, এ তো এপ্রিল-মে মাসের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। গোটা বিশ্ব উন্নয়নের পিছনে দৌড়চ্ছে আর পরিবেশের যে কি হাল বানাচ্ছে তা দস্তুরমতো বুঝছি।’ দিনভর কাঠফাটা রোদ। কিন্তু দেখা গেল সূর্য ডোবার পরও প্রবল গরম। হাঁসফাঁস অবস্থা। অফিস ছুটির পর গড়িয়াহাটে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি বলেন, ‘সন্ধ্যায় অফিস থেকে বের হওয়ার পর বুঝলাম গরম কাকে বলে! বাপরে বাপ কি ঘামই না হচ্ছে! এমন বর্ষাকাল আগে কখনও দেখেছি বলে মনে পড়ছে না।’ ধর্মতলায় বাসের জন্য দাঁড়িয়ে সুভাষ কর্মকার। বলেন, ‘শুধু গলদঘর্ম নয়, ঘামে স্নান করার মতো পরিস্থিতি।’ অ্যাপ বাইক চালক কল্লোল রায় বলেন, ‘আমাদের অবস্থা খুব খারাপ। সারা দিন বাইরে ঘুরতে হয়। যাত্রীরা বলছেন এত গরম বাইকের সিটে নাকি বসতে পারছেন না। দু’দিন আগে বৃষ্টিতে বাইক চালাতে পারছিলাম না। এখন প্রবল রোদ। খুব ঘাম। কাজ করতেই পারছি না।’ রাতে বাড়ি ফেরার পথে অনেকের বক্তব্য, ‘এবার থেকে নিম্নচাপের জন্য প্রার্থনা করতে হবে দেখছি। নইলে ঘামে স্নান! এখন তো দেখি, গরমকাল চলছে চারমাসজুড়ে!’