Bartaman Logo
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দীগ্রাম-বাজকুল রেল প্রকল্পের জন্য জমিদাতাদের নিয়ে শুনানি, আগামী মার্চে ট্রেন চালুর ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

২০২৭ সালের মার্চ মাসেই নন্দীগ্রাম-বাজকুল লাইনে ট্রেন চলবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

নন্দীগ্রাম-বাজকুল রেল প্রকল্পের জন্য জমিদাতাদের নিয়ে শুনানি, আগামী মার্চে ট্রেন চালুর ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ২০২৭ সালের মার্চ মাসেই নন্দীগ্রাম-বাজকুল লাইনে ট্রেন চলবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঘোষণার পরই ওই প্রকল্প নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা বাড়ল। বৃহস্পতিবার জেলাশাসক অফিসে প্রকল্পের জন্য ‘ল্যান্ড লুজার কমিটি’-র কর্মকর্তা এবং আরও বেশ কয়েকজনকে নিয়ে শুনানি হয়। অতিরিক্ত জেলাশাসক(ভূমি) অর্চনা ওয়াংখেড়ে নিজের অফিসে ২৭ জনকে নিয়ে দফায় দফায় শুনানি করেন। এদিন তিনশোর বেশি বাসিন্দা নন্দীগ্রামের বিভিন্ন জায়গা থেকে জেলাশাসক অফিসে এসেছিলেন। সেজন্য পুলিশের সাহায্য নিতে হয়। পুলিশ এসে অনাহূতদের অতিরিক্ত জেলাশাসকের চেম্বারের সামনে থেকে সরিয়ে দেয়।

Advertisement

নন্দীগ্রাম রেল প্রজেক্টে জমি দিয়েও অনেকে চাকরি পাননি বলে অভিযোগ। তাঁরা চাকরির দাবিতে ল্যান্ড লুজার কমিটি তৈরি করে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রায় চার মাস আগে সাড়ে তিনশো জমিদাতাকে নিয়ে তৈরি হয় ওই কমিটি। তার কোর কমিটির সদস্য ঘোলপুকুরের সৌম্যদীপ জানা, তিওরখালি গ্রামের গোপাল মাইতি, কৃষ্ণনগর গ্রামের সুদিন বেরা, বর্ণালী বেরা প্রমুখ জেলাশাসক অফিসে এসেছিলেন। তাঁরা শুনানিতে অতিরিক্ত জেলাশাসকের(ভূমি) মুখোমুখি হন। প্রত্যেকেই জমি দিয়েছেন এবং টাকা পেয়েছেন। কিন্তু, তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল জমিদাতা পরিবার চাকরি পায়নি। সেই চাকরির দাবিতে আন্দোলন শক্তপোক্ত করার লক্ষ্যে কমিটি তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ২০১০সালের ৩০জানুয়ারি নন্দীগ্রাম থেকে বাজকুল পর্যন্ত নতুন রেললাইনের কাজের সূচনা হয়। সেই সময় জমিদাতাদের ক্ষতিপূরণ ছাড়াও পরিবার পিছু একজনকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। মোট ১৮ কিলোমিটার রেলপথ। ১০৩৭টি প্লটে মোট ১৯৪একর ৩৪শতক জমি অধিগ্রহণ করা দরকার। ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৪৪৪ জন জমিদাতা চাকরি পেয়েছেন। কিন্তু, সকল জমিদাতা চাকরি পাননি। তাছাড়া, চাকরির বিষয়টি মাথায় রেখে বহু পরিবার প্রস্তাবিত জমি সেই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছিল। ফলে চাকরি দাবিদারের সংখ্যা হু-হু করে বেড়ে গিয়েছে। এনিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। গত দু’-তিন বছরে চাকরির দাবিতে দফায় দফায় ওই প্রকল্পের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শেষপর্যন্ত প্রায় ছয় একর জমি নিয়ে সমস্যা ছিল। তারমধ্যে সাড়ে তিন একর জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বাকিটা এখনও হয়নি। এখন সেই কাজটা দ্রুত সম্পন্ন করাই প্রশাসনের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। এদিন নন্দীগ্রাম ল্যান্ড লুজার কমিটির কোর মেম্বার সৌম্যদীপবাবু বলেন, ঘোলপুকুর মৌজায় আমার আট ডেসিমল জমি নেওয়া হয়েছে। জমির দাম পেয়েছি। কিন্তু, চাকরি পাইনি। আমি কমিটির একজন সদস্য। এদিন শুনানিতে উপস্থিত ছিলাম। প্রশাসনের কাছ থেকে সদর্থক কোনো বার্তা পাইনি।  
উল্লেখ্য, ১৮ কিলোমিটার ওই রেললাইনে মোট পাঁচটি স্টেশন হওয়ার কথা। লাইনের মধ্যে দু’টি বড় ব্রিজ এবং ৫৭টি ছোট সাঁকো ও ব্রিজ রয়েছে। এছাড়া, দু’টি রেলওয়ে ওভারব্রিজ এবং ৩৮টি রেল কোয়ার্টার হওয়ার কথা। জমিজটের কারণে দফায় দফায় কাজ বন্ধ হয়েছে। তবে, গত ৩১ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী রেয়াপাড়ায় সরকারি সভা থেকে ঘোষণা করেছেন, আগামী মার্চ মাসে ওই প্রকল্প চালু হবেই। মার্চ মাসে নন্দীগ্রামের বটতলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে ট্রেনে চড়বেন। তারপর বাজকুলে গিয়ে নামবেন। তাঁর ঘোষণার পরই রেল মানচিত্রে নন্দীগ্রামের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আশায় বুক বাঁধছেন সেখানকার মানুষজন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ