সংবাদদাতা, কাটোয়া : চিকিৎসকের ঘাটতি মেটাতে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এবার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ৷ স্থানীয় চিকিৎসকদের সরকারি হাসপাতালে এসে পরিষেবা দিতে পরামর্শ দিচ্ছেন স্বয়ং মন্ত্রী। এতে রোগীরা দু’বেলাই পরিষেবা পাবেন৷ চিকিৎসারও মানোন্নয় ঘটবে৷ কাটোয়ায় ছ’ জন চিকিৎসককে মহকুমা হাসপাতালে গিয়ে পরিষেবা দিতে অনুরোধ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়৷ তাঁর কথায়, চটজলদি সমাধান ‘ভোকাল ফর লোকাল’ টনিক দিয়েই কাজ হবে৷ এদিন কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল বলেন, মন্ত্রী আমাদের বেশ কয়েকটি বিভাগে এজেন্সির মাধ্যমে লোক নেওয়ার কথা জানিয়েছেন৷ তাতে কর্মী সংকট মিটবে বলেই আশা করি৷ কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে৷ বিভিন্ন বিভাগে যে পরিমাণ চিকিৎসক দরকার, সেই তুলনায় কমই রয়েছে৷ রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় হাসপাতালে পরিদর্শনে এলে সুপার সেকথা তাঁকে জানান৷ তিনি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন৷ মন্ত্রী জানান, এলাকারই চিকিৎসক৷ অথচ তিনি প্রাইভেটে প্র্যাকটিস করছেন৷ অথবা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন ভাল চিকিৎসক৷ তাঁদের সরকারি হাসপাতালে চাহিদা মতো যুক্ত করা হবে৷ অন্তত তাঁরা সপ্তাহে যে ক’দিন পরিষেবা দেবেন৷ সেটা ভালই হবে৷ কাটোয়া হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগে ১ জন চিকিৎসক রয়েছেন৷ সেখানে আরও একজন স্থানীয় চিকিৎসককে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে৷ পেডিয়াট্রিক বিভাগে ৪ জন চিকিৎসক রয়েছেন৷ সেখানেও আরও স্থানীয় একজনকে যুক্ত করার কথা বলেন মন্ত্রী। সার্জারি বিভাগে দু’ জন চিকিৎসক রয়েছেন৷ একজন চিকিৎসকের বণ্ড শেষ হয়ে গিয়েছে৷ তাঁকে ফের সেখানে নেওয়া হবে৷ সাইকোলজি বিভাগে স্থানীয় এক চিকিৎসককে নেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী৷ মাইক্রোবায়োলজি বিভাগেও একজনকে নেওয়ার কথা জানান। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে এদিন ফোন করে এই হাসপাতালে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন৷ এছাড়াও ইউএসজি,ল্যাবরেটরি, এক্স-রে বিভাগগুলিতে ভোকাল ফর লোকাল টনিকের পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে স্বাস্থ্য দপ্তরে নতুন নিয়োগ নেই৷ তাই দু’ বছরের আগে নিয়োগ করতে পারব না৷ তাই আমার কাছে চটজলদি সুরাহার জন্য স্থানীয় যেসব চিকিৎসক প্রাইভেটে প্র্যাকটিস করছেন, তাঁরা সপ্তাহে নিয়ম করে যদি কিছু সময় সরকারি হাসপাতালে গিয়ে পরিষেবা দেন৷ সেটা খুব ভাল হবে৷ কাটোয়ায় এক টেকনিশিয়ান বলেন, যিনি কলকাতায় নামী এক হাসপাতালে চাকরি করছেন। তাঁকেও অনুরোধ করা হয়েছে যাতে তিনি নিজের বাড়ি কাটোয়া হাসপাতালে আসেন৷ তাতে তাঁর নিজের এলাকাতেই কর্মসংস্থান করে দিতে পারব৷



