সংবাদদাতা, কাটোয়া : হাসপাতালের বেড রোগীদের জন্য৷ তাঁদের আত্মীয়দের জন্য নয়৷ বেড দখল করে রোগীর সঙ্গে থাকা যাবে না৷ রাজ্যে নয়া নির্দেশিকা জারি করতে চলেছে স্বাস্থ্যভবন৷ শনিবার কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে সেকথাই জানালেন রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়৷ পাশাপাশি কেন্দ্রের টাকায় তৈরি কোভিড হাসপাতালগুলি বন্ধ রাখা নিয়ে প্রাক্তন তৃণমূল সরকারকেই নিশানা করেছেন মন্ত্রী।
শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এদিন বলেন, কেন্দ্রের টাকায় তৈরি হয়েছিল ১০০ বেডের এই কোভিড হাসপাতাল৷ কোথাও জি প্লাস থ্রি বা ফোর ভবন তৈরি হয়েছে৷ সেখানে দামী মেশিন থেকে শুরু করে নতুন বেড, এমনকি কেন্দ্রীয় বাতানুকুল সুবিধাও হেলায় পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে! আমি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর ভাইপোকে খোলা চ্যালেঞ্জ করলাম। কেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের দেওয়া সুবিধা থেকে মানুষকে বঞ্চিত রেখেছিলেন৷ ২০১৯ সালে দেশ জুড়ে কোভিড পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তখনই কেন্দ্রের প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা ব্যয় করে কাটোয়া সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় অতিরিক্ত ১০০ বেডের নতুন ভবন তৈরি হয়েছিল৷ সেখানে পাইপলাইনের মাধ্যেমে অক্সিজেন সাপ্লাই করারও ব্যবস্থা হয়। ১৮টি বেডের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট রয়েছে এই হাসপাতালে৷ কিন্তু তা দীর্ঘদিন বন্ধ রাখা হয়েছিল৷ এদিন কাটোয়ায় এসে সেই ভবনের দশা দেখেই রীতিমতো ক্ষুব্ধ হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী৷ একজন কর্মী সেই ভবনের স্টোররুমের চাবি খুঁজে পাচ্ছিলেন না৷ তাঁকে রীতিমতো ধমক দেন মন্ত্রী৷ তিনি বলেন, এটা তৃণমূলের জমানা নয়, সাধারণ মানুষকে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না৷ শুক্রবার মেমারি হয়ে কাটোয়ায় সেচ দপ্তরের বাংলোয় রাত্রিবাস করেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী৷ এদিন সকাল হতেই তিনি কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে যান৷ সেখানে সুপার বিপ্লব মণ্ডল সহ নার্স , চিকিৎসক থেকে টেকনিশিয়ান সবার সঙ্গেই কথা বলেন। শোনেন তাঁদের যাবতীয় সমস্যার কথা। এদিন কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট নার্সকে টুপি না পরার জন্য শো-কজের নির্দেশ দেন৷ পাশাপাশি হাসপাতালের এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মী স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কানের কাছে নিজের প্রমোশনের কথা বলতে যান৷ সঙ্গে সঙ্গে রুষ্ট মন্ত্রী সুপারকে ডেকে তাঁকেও শো-কজের নির্দেশ দেন৷ এছাড়াও হাসপাতালের বেশ কয়েকটি মেঝে ভগ্নপ্রায় অবস্থায় ছিল৷ হাসপাতাল চত্বরে রাস্তা বেহাল৷ রোগীদের আসতে অসুবিধার মুখে পড়তে হয়৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী তা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন৷ পাশাপাশি মন্ত্রীর নিরাপত্তা কর্মীরা হাসপাতালের চারিদিক ঘুরে মোবাইলে ছবি তোলেন৷ কোথাও জঞ্জাল বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ রয়েছে কি না তার খোঁজ নেন। এমনকি তাঁরা হাসপাতালের হেঁশেলেও ঢুঁ মারেন৷ মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের বেড শুধু রোগীদের জন্য৷ সেখানে তাঁদের বাড়ির লোকের থাকার প্রয়োজন নেই৷ তবে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য ছাড় রয়েছে৷ আমরা স্বাস্থ্যভবন থেকে তার নির্দেশ পৌঁছে দেব রাজ্যের সব হাসপাতালেই৷ কারণ সেক্ষেত্রে রোগীর আত্মীয়দেরও ইনফেকশন হতে পারেন৷ মন্ত্রী এদিন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন৷ এক নাবালক সাপে কামড়ে জখম হয়েছিলেন। মন্ত্রী তখন জরুরি বিভাগে ছিলেন৷ তড়িঘড়ি সেই নাবালকের বাড়ির লোকের কাছে সাপ দেখেছিলেন কিনা নিশ্চিত হন৷ তারপর নিজেই চিকিৎসককে কীভাবে চিকিৎসা করতে হবে তা বলে দেন৷ এদিন দুপুরে কেতুগ্রাম-২ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রতে ঢুঁ মারেন মন্ত্রী৷