সংবাদদাতা, খড়্গপুর: ডেবরা, সবং কিংবা খড়্গপুর, এর আগে কবে হাসপাতালের শৌচাগার পরিষ্কার করা হয়েছে, তা মনে করতে পারছিলেন না স্বাস্থ্যকর্মীরা। আধিকারিকরা অবশ্য আমতা আমতা করে বলেন, মাঝেমধ্যেই পরিষ্কার করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের ভয়ে আগেভাগেই পশ্চিম মেদিনীপুরের সমস্ত হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। গত দু’-তিনদিন ধরে তৎপরতার সঙ্গে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, শৌচাগার থেকে আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে বদলে ফেলা হচ্ছে বেডকভার। কুকুর, বিড়াল ঢুকলে তৎক্ষণাৎ তাড়িয়ে দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এই ক’দিনে হাসপাতালে সিনিয়র চিকিৎসকদের আনাগোনাও বেড়েছে বলে দাবি রোগীর পরিজনদের। যদিও, পশ্চিম মেদিনীপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কবে আসবেন সেবিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো খবর নেই জেলা প্রশাসনের কাছে।
মঙ্গলবার জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী পূর্ব মেদিনীপুরে এসেছিলেন। শুনছি, এবার ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও আসতে পারেন। সেটা এই সপ্তাহের শেষে বা আগামী সপ্তাহের শুরুতেও হতে পারে!’
পূর্ব মেদিনীপুরে রীতিমতো ‘দাবাং’ মুডেই হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এগরা হাসপাতালের বেহাল পরিকাঠামো দেখে দু’জন নন-মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন। তারপরই সতর্ক হয়ে গিয়েছে পাশের জেলা পশ্চিম মেদিনীপুর। খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতাল, ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, সবং গ্রামীণ হাসপাতাল সহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালের পরিষেবা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভিযোগ আছে রোগীর পরিজনদের। এবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের আভাস পেয়ে সেই সমস্ত হাসপাতালেরই ভোল বদলাতে শুরু করেছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হচ্ছে শৌচাগার থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ড। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আসার আগেই সিএমওএইচ, ডেপুটি সিএমওএইচদের নেতৃত্বে হাসপাতাল পরিদর্শনও শুরু হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, ধারাবাহিকভাবে হাসপাতাল পরিদর্শন হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর রাখা হয়। এবার আরও ভালো করে প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হাসপাতাল পরিষ্কারের পাশাপাশি খাতাপত্র, উপস্থিতির খতিয়ানও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ ও খামতির দিকগুলি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে। খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার গৌতম মাইতি বলেন, আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও কর্মী নেই। একজন মাত্র সুইপারকে দিয়ে সবসময় হাসপাতাল পরিষ্কার রাখা সম্ভব হয় না। তবুও আমরা চেষ্টা করি।
সবং, শালবনী, গড়বেতা, ডেবরা, কেশপুরের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিষেবা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। সুপার ইন্দ্রনীল সেন বলেন, জেলা, এমনকি জেলার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকেও রোগীদের এখানে রেফার করা হয়। বেড দেওয়া যায় না। মেডিসিন সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে মেঝেতেও রোগীরা আছেন। পঞ্চাশ শতাংশ চিকিৎসক দিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছে আমাদের। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেও যেহেতু একজন চিকিৎসক, আশা করি, উনি সবটাই বুঝবেন।