নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের একাংশকে সতর্ক করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্বারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এদিন তিনি হাসপাতাল পরিদর্শনের পর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য দপ্তরের কর্মী, আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি বলেন, সব খবর রয়েছে। ১২৫জন চিকিৎসক ডিউটির সময়ে কোথায় প্র্যাকটিস করছেন, সেটাও অজানা নয়। আশা করা যায়, তাঁরা শুধরে যাবেন। তিনি দালালরাজ বন্ধ করতেও কড়া নির্দেশ দেন। দালালরা যাতে কোনোভাবেই সুবিধা করতে না পারে, তারজন্য সবাইকে নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেন। হাসপাতালে চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। যে সমস্ত চিকিৎসক প্রাইভেটে প্র্যাকটিস করেন, তাঁদের সপ্তাহে তিনদিন করে পরিষেবার কাজে লাগানো হবে।
এদিন বৈঠকে রাজ্যের আরও দুই মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র এবং ক্ষুদিরাম টুডু যোগ দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাতে বড়শুল ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। সেখানে প্রতিটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেন। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ড্রেনগুলি পরিদর্শনের নির্দেশ দেন। শুক্রবার সকালে তিনি বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। শিশু, প্রসূতি সহ অন্যান্য ওয়ার্ডগুলি পরিদর্শন করেন। রোগীদের কাছে সমস্যার কথা জানতে চান। আধিকারিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। মন্ত্রী বলেন, রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শুনেছি। হাসপাতালে কী কী প্রয়োজন রয়েছে, সেটাও দেখা হয়েছে। হাসপাতালে সকলকে ব্যাচ পড়তে হবে। দালালরাজ বন্ধ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রোগীর আত্মীয়দেরও পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। হাসপাতালের নিরাপত্তা বাড়ানো হবে। হাসপাতালের ওয়ার্ডে অকারণে রোগীর পরিবারের লোকজনরা থাকতে পারবেন না। যেসব রোগীর অপারেশন হবে, তাঁদের বাড়ির একজন থাকতে পারবেন।
এদিন পরিদর্শনের পর চিকিৎসক অভীক দে’র পিজিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, তিনি পড়াশোনাই করেননি। সার্ভিস কোটায় পিজিটি করার কারণ হিসাবে তিনি দেখিয়েছিলেন, গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা করেছেন। অনাময় হাসপাতাল বর্ধমান শহরের মধ্যেই। তিনি এই হাসপাতালকে গ্রামীণ হিসাবে দেখাতে চেয়েছিলেন। এই হাসপাতালেও তাঁকে কোনো দিন দেখা যায়নি। অভীক মানেই ‘থ্রেট কালচার’।বর্ধমান মেডিকেল কলেজে বৈঠকের পর তিনি অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এখানেও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। ওপেন হার্ট সার্জারি দ্রুত চালু হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন নিয়ে আধিকারিকদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য ছিল না। হঠাৎ করেই তিনি বড়শুল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। সেখান থেকে রাতেই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে যান। হাসপাতালের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেন। তারপর এদিন সকালে ফের তিনি বর্ধমান হাসপাতালে চলে আসেন।