Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

একটি কিডনি নিয়েও সুস্থ থাকার রহস্য

আবার বিভিন্ন রোগের কারণে একটি কিডনি বাদও দিতে হতে পারে

একটি কিডনি নিয়েও সুস্থ থাকার রহস্য
  • ২০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

মানুষ দু’টি কিডনি নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, একটা কিডনি জন্ম থেকেই নেই অথবা তৈরি হলেও কার্যকরী নয়। আবার বিভিন্ন রোগের কারণে একটি কিডনি বাদও দিতে হতে পারে। আবার কিডনিদাতাদেরও একটা কিডনিই সম্বল। এ সমস্ত ক্ষেত্রে একটা প্রশ্ন প্রায়ই নাড়া দেয়— একটা কিডনি নিয়ে ভালো থাকা সম্ভব? 

Advertisement

অবশ্যই সম্ভব। এর সবচেয়ে উজ্জ্বলতম উদাহরণ আন্তর্জাতিক লং জাম্পার অঞ্জু ববি জর্জ। একটা কিডনি সম্বল করে বিশ্বক্রীড়া চ্যাম্পিয়নশিপে পদক জয় করেন তিনি। ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী যুবক বয়সে কিডনি দান করে ৯৩ বছর বেঁচে ছিলেন। আমেরিকার খেলোয়াড় ট্রেভর হফম্যানের একটি কিডনি বাদ পড়েছিল রোগের কারণে। কিন্তু বিঘ্নিত হয়নি জীবনযাত্রা। 
প্রতি ১০০০ জনে একজন একটি কিডনি নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এবং বাম দিকের কিডনির ক্ষেত্রে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। বস্তুত আমাদের দেহে দু’টি কিডনির একটি রিজার্ভ হিসেবে থাকে। দু’টি কিডনি একসঙ্গে কাজ করলেও একটির অবর্তমানে অন্য কিডনি তার পরিপূরকের কাজ করে দেয়। ফলে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় কোনও প্রভাব পড়ে না। 
তবে কোনও কোনও ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী ফল হিসেবে উচ্চ রক্তচাপ, প্রস্রাবে প্রোটিন নিঃসরণ (প্রোটিনিউরিয়া) বা কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস পেতে পারে। তবে সে পরিসংখ্যান বেশি নয়। বরং দেখা গিয়েছে, সাধারণ জনগণের তুলনায় কিডনিদাতাদের ইএসআরডি (এন্ড স্টেজ রেনাল ডিজিজ) হওয়ার প্রবণতা কম। অর্থাৎ সারাজীবনে একজনের যদি ৩.২ শতাংশ ইএসআরডি হওয়ার শঙ্কা থাকে একজন কিডনিদাতার সেই ঝুঁকি মাত্র ০.৯ শতাংশ! অর্থাৎ কিডনিদানের ক্ষেত্রে নেতিবাচক চিন্তার প্রয়োজন নেই। 
তবে সময়মতো কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা, সমস্যা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করা অবশ্যই প্রয়োজন। 
যদি জানা যায় কোনও ব্যক্তির একটি কিডনি রয়েছে, তাহলে প্রথমে দেখতে হবে, দ্বিতীয় কিডনিটি নির্দিষ্ট কিডনির জায়গায় না থেকে অন্য জায়গায় রয়েছে কি না বা যথাযথ কিডনি তৈরি হয়েছে কি না (ডিসপ্লাসটিক, অ্যাট্রোফিক কিডনি)। দেখে নিতে হবে কিডনিটি পুরোপুরি 
কার্যকরী কি না। যদি ছোটখাট কোনও সমস্যা থাকে তা মিটিয়ে নিতে হবে তৎক্ষণাৎ। 
তবে যেসব বিষয়ের প্রতি নজর দেওয়া দরকার সেগুলো হল ব্লাড সুগার, ব্লাড প্রেশার আছে কি না। তা থাকলে রোগের যথাযথ চিকিৎসা করা, নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শে থাকা, মদ্যপান, ধূমপান বর্জন করা, নিয়মিত শরীরচর্চা করে ওজন ঠিক রাখা, স্বাস্থ্যসম্মত সুষম খাবার খাওয়া, পরিমিত জল পান করা, ব্যথা নিরোধক ওষুধের কম ব্যবহার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দোকান থেকে ‘ওভার দ্য কাউন্টার’  ওষুধ ব্যবহার না করা। যদি কোনও সমস্যা তৈরি হয় দ্রুত অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই ক’টি নিয়মেই সুস্থ থাকবেন এক কিডনির অধিকারীরাও। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ