নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সিজারিয়ান ডেলিভারি কমানোর উপর জোর দিচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান ডেলিভারি কমাতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলায় গত কয়েক বছরে স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যা মাসে পঞ্চাশ, ষাট শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।
ঝাড়গ্রাম জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভুবনচন্দ্র হাঁসদা বলেন, জেলার হাসপাতালগুলিতে পাঁচ-ছ’ বছর আগেও প্রতি মাসে গড় পঞ্চাশ শতাংশের উপর স্বাভাবিক প্রসব হতো। সেই সংখ্যা তিরিশ শতাংশে নেমে এসেছে। জেলার বেসরকারি হাসপাতালির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্বাভাবিক প্রসব নিয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা আগের থেকে বেড়েছে।
ঝাড়গ্রাম জেলায় পাঁচ বছর আগেও প্রতি মাসে গড় স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যা ছিল ৭০ শতাংশ। জেলায় ২০২২ সালে প্রতি মাসে গড় স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যা ৪০ শতাংশে নেমে আসে। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যা ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। স্বাস্থ্যদপ্তর ঝাড়গ্রামে সিজারিয়ান ডেলিভারি কমাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। মাতৃ-শিশু স্বাস্থ্যের কর্মসূচি রূপায়নে জোর দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৫ সালের পর থেকে স্বাভাবিক প্রসব নিয়ে মানুষের সচেতনতা বেড়েছে। সিজারিয়ান ডেলিভারির তুলনায় স্বাভাবিক প্রসব নিরাপদ ও উপযুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। অকারণ সিজারিয়ান মায়ের শরীর ও মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। মা ও শিশুর স্বাস্থ্যগত নানা ঝুঁকির সম্ভবনা দেখা দেয়। স্বাভাবিক প্রসবের সময়ে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। মা ও শিশু সে ক্ষেত্রে দ্রুত আরোগ্য লাভ করে। প্রসূতি মায়ের গর্ভাবস্থায় উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনও অসুখ না থাকলে স্বাভাবিক প্রসবে সমস্যা দেখা দেয় না। স্বাভাবিক প্রসবে ‘লেবার পেন’ হয়। বর্তমান আধুনিক ওষুধের দৌলতে নব্বইভাগ ব্যাথামুক্ত প্রসব সম্ভব হচ্ছে। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে গ্ৰামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রেগুলিতে খুব প্রয়োজন ছাড়া সিজারিয়ান ডেলিভারি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নযয়াগ্ৰাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল সুপার বিদ্যুৎ পাতর বলেন, পাঁচ বছর আগেও এখানে পঞ্চাশ শতাংশের উপর সিজারিয়ান ডেলিভারি হতো। এখন সেটা ৩০ শতাংশের নীচে নেমে এসেছে। প্রসূতি মায়ের খুব জটিলতা না থাকলে সিজারিয়ান ডেলিভারি করা হচ্ছে। সন্তান জন্মানোর পর মা ও শিশুর আরোগ্যের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বেলপাহাড়ী গ্ৰামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সিমক্স সেন্টার ও ব্লাড সংরক্ষণ ইউনিট গড়ে তোলা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে সিজারিয়ান ডেলিভারি শুরু হয়ে যাবে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক আধিকারিক বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে প্রসব সংখ্যা ৭০টি। সিজারিয়ান ডেলিভারি চালু হলেও স্বাভাবিক প্রসবের উপরই জোর দিতে বলা হয়েছে।