নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জেলার আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য রেস্তরাঁ। পর্যটন ব্যবসায় জোর আনতে তৈরি হচ্ছে বড় বড় হোটেল, রিসর্ট। কিন্তু এই জায়গাগুলিতে খাবারের মান কতটা স্বাস্থ্যসম্মত, কিংবা কিচেনে স্বাস্থ্যবিধি মানে হচ্ছে কি না— এ বিষয়ে এফএসএসএআই (ফ্যাসাই)-এর নির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকলেও সেভাবে নজরদারি করা হয় না। এবার থেকে হোটেল রিসর্টগুলিকে ফুড সেফটির ট্রেনিং দেবে স্বাস্থ্যদপ্তর। ইতিমধ্যেই কর্মশালার মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
মূলত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন ওয়ার্কিং প্লেস, হাসপাতালের ক্যান্টিনগুলিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রান্না করা ও স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের ব্যাপারে প্রচার করার উদ্দেশ্যেই ‘ইট রাইট ক্যাম্পাস’ কর্মসূচি চালু করেছিল ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অব ইন্ডিয়া। এই কর্মসূচিতে এই ধরনের জায়গায় যে সমস্ত সংস্থা রান্না করা বা খাবার পরিবেশনের দায়িত্ব রয়েছে, তাদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে শুধুমাত্র স্কুল-কলেজ, হাসপাতালই নয়, এবার থেকে হোটেল রেস্তরাঁগুলিতেও একইভাবে ‘ইট রাইট ক্যাম্পাস’ কর্মসূচি চালানো হবে। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের ফুড সেফটি অফিসাররা ‘ইট রাইট ক্যাম্পাসে’ বিভিন্ন হোটেল, রিসর্ট, রেস্তরাঁর শেফ ও কিচেন স্টাফদের ফুড সেফটি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেবেন। ইতিমধ্যেই হাওড়ার বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তরাঁর শেফ, কর্মীদের নিয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। প্রথম পর্বে সেখানে ১০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে এমন আরও কর্মশালা করতে চায় স্বাস্থ্যদপ্তর।
হাওড়ার উলুবেড়িয়া, শ্যামপুর, গাদিয়াড়া, গড়চুমুকে দামোদরের ধারে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু আধুনিক হোটেল ও রিসর্ট। এই অভিজাত রিসর্টগুলিতে নিয়মিত পর্যটকদের আনাগোনার পাশাপাশি মাঝেমধ্যেই বড় বড় পার্টি হয়ে থাকে। একইভাবে হাইওয়েগুলির ধারেও তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন হোটেল। এই ধরনের অভিজাত হোটেলে ‘ইট রাইট ক্যাম্পাস’ কর্মসূচি লাগু করবে স্বাস্থ্যদপ্তর। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ কিশলয় দত্ত বলেন, ‘বড় বড় রিসর্টগুলির কিচেনে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরে সেই হোটেল বা রিসর্ট কর্তৃপক্ষ আশপাশের ছোট ছোট রেস্তরাঁকে ট্রেনিং দিতে পারবে।’ ভোজ্য তেল, গুঁড়ো মশলার ক্ষেত্রে ভেজাল ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সেবিষয়ে পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে হোটেল কর্মীদের। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি এই কর্মসূচির মাধ্যমে আনরেজিস্টার্ড ছোট রেস্তরাঁগুলিকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনতে তৎপর দপ্তর। স্পেশাল ড্রাইভ চালিয়ে ছোট বড় রেস্তরাঁ, ক্যাফে, ক্লাউড কিচেন মিলিয়ে জেলার প্রায় তিন হাজার খাবার ব্যবসায়ীকে গত এক বছরে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনতে
পেরেছে স্বাস্থ্যদপ্তর।