Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্ঘটনা মোকাবিলায় জগন্নাথধামের পাশেই হবে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও দমকল

দুর্ঘটনা মোকাবিলায় জগন্নাথধামের পাশেই হবে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও দমকল
  • ২২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘায় জগন্নাথধামের অঙ্গ হিসেবেই এবার তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। মন্দিরের পাশে যে গেস্ট হাউস রয়েছে, সেখানেই তৈরি করা হচ্ছে এই পরিকাঠামো। ওই গেস্ট হাউসেই  জগন্নাথধামের প্রধান কার্যালয় খোলা হবে। ইতিমধ্যে মন্দির নির্মাণের দায়িত্বে থাকা হিডকোকে ওই গেস্ট হাউস হস্তান্তর করাছে জেলা পরিষদ। এর আগে মন্দিরের নিরাপত্তা ও নজরদারির জন্য ওই গেস্ট হাউসে পুলিস ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতবছর ডিসেম্বর মাসে দীঘা সফরে এসে ওই গেস্ট হাউসে পুলিস ক্যাম্প সহ সহ কিছু পরিকাঠামো থাকবে বলে ঘোষণা করে গিয়েছিলেন। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি বলেন, জেলা পরিষদের গেস্ট হাউস হস্তান্তর হয়ে গিয়েছে। সেখানে জগন্নাথধামের প্রধান কার্যালয় সহ বেশকিছু পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। 

Advertisement

জগন্নাথধাম খুলে গেলে দীঘায় যে প্রচুর পুণ্যার্থী ও পর্যটকের ঢল নামবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তাঁদের চিকিৎসার প্রয়োজনেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের মোকাবিলায় তৈরি হচ্ছে দমকল কেন্দ্র। এটি রামনগরের ফতেপুরের নিমতলায় অবস্থিত দমকলকেন্দ্রের ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। যদিও জগন্নাথধামে ব্যাপক মানুষের সমাগমের কথা মাথায় রেখে আগামীদিনে দীঘায় একটি পূর্ণাঙ্গ দমকলকেন্দ্র গড়ে তুলতে চায় দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থা। তারজন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আগেই প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান  দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থার (ডিএসডিএ) মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক অপূর্বকুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, জগন্নাথধামের উদ্বোধন হলে যেহেতু ভিড় বাড়বে, দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়বে। তাই দীঘায়  দমকলকেন্দ্র প্রয়োজন। আমরা জেলাশাসকের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করেছি। প্রয়োজনীয় জমির খোঁজ পেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে। 
এদিকে জগন্নাথধামের শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে জোরকদমে। মন্দিরে জগন্নাথদেব সহ তিনটি পাথরের মূর্তি অনেক আগেই এসে গিয়েছে। নিত্যপুজোর জন্য যে মূর্তি প্রতিষ্ঠা হবে, তা হবে নিমকাঠের। যার প্রাণপ্রতিষ্ঠা করবেন পুরীর মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রাজেশ দৈতাপতি। নিত্যপুজোর দায়িত্বে থাকবে ইসকন মন্দির কর্তৃপক্ষ। জগন্নাথধাম পরিচালনার জন্য ইতিপূর্বে ট্রাস্ট গড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুজো পদ্ধতি, নিত্য উপচার, ধ্বজা বদলের কাজ সবটাই হবে পুরীর মন্দিরের রীতিনীতি মেনেই। মহাপ্রভুর ভোগ মিলবে মন্দিরে বসেই। দীঘার মন্দিরের মূল ভোগে থাকবে প্যাঁড়া আর ছানার মুড়কি। আগাম সুরক্ষার কথা ভেবে জগন্নাথের প্রাণপ্রতিষ্ঠার আগের দিন ২৮ এপ্রিল থেকে দীঘা শহরে টোটো সহ সমস্ত যানবাহন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য পুলিস-প্রশাসন। ২৯ তারিখ থেকে রাজ্যজুড়ে সমস্ত ব্লকে বসবে জায়ান্ট স্ক্রিন। সেই স্ক্রিনে সরাসরি দেখা যাবে প্রাণপ্রতিষ্ঠা ও উদ্বোধন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ