নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পাক্কা আধঘণ্টা দেরিতে স্কুলে এলেন প্রধান শিক্ষক। তিনি নাকি প্রায়শই দেরি করে আসেন স্কুলে। বারবার এই অভিযোগ ওঠায় এবার জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ নিজে চলে আসেন বিদ্যালয়ে। তারপর মুন্নাভাইয়ের স্টাইলে গান্ধীগিরি। প্রধান শিক্ষকের হাতে তুলে দেন জবা ফুল। এই অভিনব অভ্যর্থনার ঠেলায় থতমত প্রধান শিক্ষক কালীপদ সর্দার। বেজায় বিব্রতও। ঘটনাটি ঘটেছে গোসাবা ব্লকের দায়াপুর পিসি সেন উচ্চ মাধ্যমিক হাইস্কুলে। প্রধান শিক্ষক ও তাঁর সহকারী শিক্ষক নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ঢুকেছেন স্কুলে। তাঁদের অপেক্ষায় ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ অনিমেষ মণ্ডল, কয়েকজন অভিভাবক ও তৃণমূলের কিছু কর্মী। তাঁরা জবাফুল দিয়ে স্বাগত জানান দুই শিক্ষককে। স্কুল শুরু হয় ১০টা ৪০ মিনিটে। আর কালীপদবাবুরা ঢোকেন ১১টা ১০ মিনিটে। উপাধ্যক্ষরা তাঁদের দেখে এগিয়ে আসেন। ফুল দেন। তারপর কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘আপনারা শিক্ষার মেরুদণ্ড। আপনাদের প্রণাম জানাই।’ এই ঘটনায় লজ্জিত বোধ করতে থাকেন কালীপদবাবুর। উপাধ্যক্ষকে স্কুলে ঢুকে কথা বলার অনুরোধ করেন। কিন্তু তা হয়নি। উপাধ্যক্ষ বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক প্রায় দেরি করে আসেন। স্কুলের মান খারাপ হচ্ছে। এদিন স্কুলে পরীক্ষা ছিল। পড়ুয়ারা বৃষ্টিতে ভিজে স্কুলে এলেও প্রধান শিক্ষক এলেন স্কুল শুরু হওয়ার প্রায় আধ ঘণ্টা বাদে। চক্ষুলজ্জার জন্য তাঁকে জবা ফুল দিয়ে গান্ধীগিরি দেখানো হয়েছে।’ প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য, ‘এদিন প্রচণ্ড বৃষ্টি পড়ছিল। ফলে খেয়াঘাটে নৌকা ছাড়তে দেরি করেছে। তবে এ ঘটনা অনভিপ্রেত। আমায় হেনস্থা করতেই এমন করা হয়েছে।’ অভিযোগ, এর আগেও স্কুলটি উঠে এসেছিল খবরের শিরোনামে। সেবারও বিতর্কে নাম জড়িয়েছিল প্রধান শিক্ষকের। চার আগষ্ট পরীক্ষা চলাকালীন অভিভাবকদের একাংশ স্কুলে ঢুকে তাঁকে মারধর করেন বলে জানা গিয়েছে।



